কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইতে সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন বেড়েছে ২২.৬৮%

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন হলেও লেনদেন বেড়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ও ডিএস৩০ সূচক ইতিবাচক হলেও কমেছে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক। মোট লেনদেন ও দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২২ দশমিক ৬৮ শতাংশ হারে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আগের সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ২৬ শতাংশ। লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সূচক ইতিবাচক থাকলেও দুদিন পতন হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক, বেশিরভাগ শেয়ারদর ও লেনদেনে একই চিত্র দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ২৫০ দশমিক ৬০ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক চার দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে এক হাজার ১৯২ দশমিক ৯০ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৩২ দশমিক ৮২ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭১টির, কমেছে ১৪৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টি কোম্পানি শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির।
দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৫৮ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ২১১ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ২৯২ কোটি ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৭ টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৬৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৭৯৩ কোটি দুই লাখ এক হাজার ৫৪ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৪৬১ কোটি ৫১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৩ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ৩৩১ কোটি ৫০ লাখ ২১ হাজার টাকা বা ২২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৮৪ হাজার ৮৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার ৮৬২ কোটি ৭৯ লাখ এক হাজার ৬৭৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ২৬ শতাংশ বা পাঁচ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে বি ক্যাটেগরির গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ৪২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা ইস্টার্ন কেব্লস লিমিটেডের দর ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দর ১৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দর ১৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের দর ১৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দর ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের দর ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দর ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও ঢাকা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দর ১১ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের দর ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের দর ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, ন্যাশনাল ফিট মিল লিমিটেডের দর ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ, স্টান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের দর ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের দর ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেডের দর আট দশমিক ১৫ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের দর আট দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের দর সাত দশমিক ৫০ শতাংশ ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট এক্সিম ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেডের দর ছয় দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ব্র্যাক ব্যাংক, ফরচুন শুজ, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার, আইএফআইসি ব্যাংক, ইস্টার্ন কেব্লস লিমিটেড, মুন্নু সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিডেট, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৪টির, কমেছে ১২২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩০টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৭০৮ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট, সিএএসপিআই সূচক দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৪১ দশমিক শূন্য আট পয়েন্ট, সিএসই৫০ সূচক দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ১৬৭ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট, সিএসআই সূচক দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে এক হাজার ৪২ দশমিক ২৮ পয়েটে এবং সিএসই ৩০ সূচক দশমিক ২০ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৯৭৫ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে স্থির হয়।
সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১২ কোটি তিন লাখ ২৫ হাজার ৬৪৫ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৭৭ কোটি ৯১ লাখ ৬৪ হাজার ৪০২ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ৩৪ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার টাকা।
৩২ দশমিক ৮৩ শতাংশ দর বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড। এরপর জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ২২ দশমিক ২২ শতাংশ, এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের দর ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ইস্টার্ন কেব্লসের ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজের ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ১৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ দর বেড়েছে।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এরপরের অবস্থানগুলোতে ছিল আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ফিড মিল লিমিটেড, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড, দি ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, আইবিবিএল মুদারাবা পারপিচুয়াল বন্ড, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক, ডোরিন পাওয়ার, রানার অটোমোবাইলস, ব্যাংক এশিয়া, বেক্সিমকো লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি এবং এসএস স্টিল লিমিটেড।

 

সর্বশেষ..