ডিএসইতে সূচকে সংশোধন হলেও লেনদেন অপরিবর্তিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুদিন ইতিবাচক থাকার পর গতকাল উভয় বাজারে সূচকে সংশোধন হয়েছে। বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন হলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হলেও ১০ মিনিটের মধ্যে বিক্রির চাপ শুরু হয়। এর ফলে সূচকের পতন হয়। তবে আধঘণ্টা পর মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরলেও দুপুর দেড়টার দিকে ফের বিক্রির চাপ বেড়ে গেলে সূচক নেমে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স সূচক ১৯ পয়েন্ট নেতিবাচক অবস্থানে চলে যায়। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৪৩৬ দশমিক ১৫ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক তিন দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা দশমিক ২৭ শতাংশ কমে এক হাজার ২৭৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস ৩০ সূচক ছয় দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৯২২ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন কমে তিন লাখ ৯১ হাজার ১২১ কোটি টাকা হয়। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয় ৮০১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৮০১ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৭২ লাখ টাকা। এদিন ১৬ কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার ১৭৮টি শেয়ার এক লাখ ৫১ হাজার ১৬৫ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ২২৯টির, অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে খুলনা পাওয়ার। কোম্পানিটি এককভাবে বাজারে নেতৃত্ব দেয়। ১২৪ কোটি ১৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৮৮ লাখ ৯০ হাজার ১৫৫টি শেয়ার লেনদেন হয়। শেয়ারটির দর চার টাকা ২০ পয়সা বেড়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সামিট পাওয়ারের ৯৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপরের অবস্থানগুলোতে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার, অ্যাকটিভ ফাইন, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সিলভা ফার্মা, ইফাদ অটোস, ড্রাগন সোয়েটার, বিবিএস কেব্লস ও স্টাইল ক্রাফট। ১৯০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সদ্য তালিকাভুক্ত সিলভা ফার্মা। এরপরে মেঘনা সিমেন্টের দর ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, সামিট পাওয়ার ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বিডি অটোকার আট দশমিক ৭৩ শতাংশ, হাওয়েল টেক্স সাত দশমিক ৮১ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংক সাত দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট ছয় দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ভিএফএস থ্রেড ছয় দশমিক ৮৮ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ছয় দশমিক ৮৮ শতাংশ, ফাইন ফুডস পাঁচ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ দর কমেছে স্টাইল ক্রাফটের। ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের দর আট শতাংশ কমেছে। এছাড়া জুট স্পিনার্স সাত দশমিক ৬৫ শতাংশ, আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড ছয় দশমিক ৯৪ শতাংশ, আরামিট সিমেন্ট ছয় দশমিক ৯২ শতাংশ, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস ছয় দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৩৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ১৬৫ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ দশমিক ৭১ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ৭৮০ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বোমোট ২৪০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির। কমেছে ১৬০টির। অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর।
সিএসইতে এদিন ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে ২৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার ১০৩ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে আট কোটি ১২ লাখ টাকা। সিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে সামিট পাওয়ার। কোম্পানিটির ১০ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপরে খুলনা পাওয়ার এক কোটি ৭৬ লাখ টাকার, বিএসআরএম এক কোটি শূন্য সাত লাখ টাকার, বিডি ফাইন্যান্স ৯৮ লাখ টাকার, আমান কটন ফাইব্রাস ৮২ লাখ, বিবিএস কেব্লস ৬৮ লাখ টাকার, বসুন্ধরা পেপার মিল ৫৮ লাখ, সামিট এল্যায়েন্স পোর্ট ৫৩ লাখ, বারাকা পাওয়ার ৪৪ লাখ টাকার, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।