ডিএসইতে সূচক কমলেও মোট লেনদেন বেড়েছে ২০.৭৬%

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে মোট লেনদেন বেড়েছে ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, দৈনিক লেনদেনও বেড়েছে ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। লেনদেন বাড়লেও গত সপ্তাহে সবকয়টি সূচকেরই পতন হয়। আর বিক্রির চাপের কারণে সূচক পড়লেও লেনদেন বেড়েছে। এছাড়া সবকটি সূচক ও বাজার মূলধনও নেতিবাচক অবস্থানে ছিল।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বা দশমিক ২৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৪২৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১৭ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৪০ শতাংশ কমে এক হাজার ২৫৯ দশমিক ৭০ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসই৩০ সূচক ১০ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ কমে দুই হাজার ১৪ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৪৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩টির, কমেছে ২১৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি একটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৪৭১ কোটি ৫৮ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫২ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৯০ কোটি ৫১ লাখ ৩৩ হাজার ৭০১ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার ২৬১ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৯৫২ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৭ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৯৮ হাজার ৩৪২ কোটি ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮১ টাকা, শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার ৫০১ কোটি ২৩ লাখ ৬২ হাজার ৯১ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে তিন দশমিক ২২ শতাংশ।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে দুই কোটি ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭৮ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারমূল্য ১১৭ কোটি ৯১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। আলোচ্য সপ্তাহে এক কোটি পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ৭২২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারদর ৭৭ কোটি ৭৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিএসআরএম লিমিটেড। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির ৬৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯০৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজারদর ৭৬ কোটি চার লাখ ৩২ হাজার টাকা।
টপটেন তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি (বেক্সিমকো), ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিউশন কোম্পানি, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, গ্রামীণফোন এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড।
ডিএসইতে দর বাড়ার শীর্ষে উঠে এসেছে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে এ কোম্পানির ৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। এ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে পাঁচ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার। তৃতীয় স্থানে থাকা ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ২৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রতিদিন গড়ে ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর পুরো সপ্তাহে ১১৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো অ্যাডভেন্ট ফার্মা, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ওইম্যাক্স ইলেকট্রোডস, আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।
বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে দর কমার শীর্ষে রয়েছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। আলোচ্য সপ্তাহে দর কমেছে ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন কোম্পানিটির ৫৫ লাখ ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পুরো সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট দুই কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লুজারের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দর কমেছে ১৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন তিন লাখ ৫১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পুরো সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ১৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দর কমেছে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন কোম্পানিটির এক লাখ টাকা ৩৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পুরো সপ্তাহে মোট ছয় লাখ ৮৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া লুজারে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং, শ্যামপুর সুগার মিলস, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন কেবলস, ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং মিলস, সমতা লেদার কমপ্লেক্স এবং কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।