ডিএসইতে সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে ৬.৫১%

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে সব সূচকের পতন হলেও মোট লেনদেন ও দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ছয় দশমিক ৫১ শতাংশ। বাজার মূলধনও বেড়েছে দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। তবে কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আগের সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুই দিন সূচক ইতিবাচক ছিল, তিন দিন কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই চিত্র লক্ষ করা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা দশমিক ২৮ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ২৪৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক দুই দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা দশমিক ১৯ শতাংশ কমে এক হাজার ২০৮ দশমিক ১১ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসই ৩০ সূচক দুই দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বা দশমিক ১৬ শতাংশ কমে এক হাজার ৮৫৬ দশমিক ১২ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৪৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৩টির, কমেছে ১৮৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির।
দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৫৫২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭২ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৫১৯ কোটি ১৫ লাখ এক হাজার ৮৫৭ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা ছয় দশমিক ৫১ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৬৪ কোটি ৭৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৬১ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ৫৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৮৭ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ১৬৯ কোটি টাকা বা ছয় দশমিক ৫১ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববারে বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৮১ হাজার ২২২ কোটি ৬২ লাখ ২৫ হাজার ২৮৬ টাকা, শেষ কার্যদিবসে যার পারমাণ ছিল তিন লাখ ৮১ হাজার ৩৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭২ হাজার ৮০৩ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক শূন্য তিন শতাংশ বা ১১৭ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটির দর ৩৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা স্টাইলক্রাফটের দর ৩৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও লিবরা ইনফিউশনের দর ৩১ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ওয়াটা কেমিক্যালের দর ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং সেন্ট্রাল ফার্মার দর ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ারের দর ১৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, মুন্নু জুট স্টাফলার্সের দর ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, জেমিনি সি ফুডের দর ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ ও এমবি ফার্মার দর ১১ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। স্যালভো কেমিক্যালের দর ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, ইন্ট্রাকো রিফুইলিংয়ের দর ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ, কেডিএস অ্যাকসেসরিসের দর ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, শাইনপুকুর সিরামিকসের দর ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিসের দর ১১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, ভিএফএস থ্রেডের দর ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ, দেশবন্ধু পলিমারের দর ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ ও ডেফোডিল কম্পিউটার্সের দর ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, খুলনা পাওয়ার, এসকে ট্রিমস, ইফাদ অটোস, সায়হাম কটন মিলস, ইনটেক লিমিটেড, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু সিরামিক, বিবিএস কেব্লস ও পেনিনসুলা চিটাগং লিমিটেড।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৮৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ১৫৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক দশমিক ২৮ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক দশমিক ২৪ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক দশমিক ১৬ শতাংশ কমেছে। সিএসই৩০ সূচক কমেছে দশমিক ৫৫ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে আট কোটি ২২ লাখ টাকা।
১৫৮ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে নতুন তালিকাভুক্ত এন ক্যাটেগরির কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেড। এরপরের অবস্থানগুলোতে ছিল লিবরা ইনফিউশনস, ওয়াটা কেমিক্যালস, ইউনাইটেড পাওয়ার, সেন্ট্রাল ফার্মা, ওরিয়ন ইনফিউশন, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিস, এমবি ফার্মা, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বঙ্গজ লিমিটেড।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকায় উঠে আসে আরামিট সিমেন্ট, ইন্ট্রাকো রিফুইলিং, ভিএফএস থ্রেড, হাক্কানি পাল্প ও পেপার মিলস, শাইনপুকুর সিরামিকস, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, নূরানি ডাইং ও সুয়েটার, সালভো কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রি, ন্যাশনাল ফিট মিলস ও বীচ হ্যাচারি।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল কাট্টলি টেক্সটাইল, সায়হাম কটন মিলস, খুলনা পাওয়ার, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, শাশা ডেনিমস, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনটেক অনলাইন, বেক্সিমকো লিমিটেড, দি পেনিনসুলা চিটাগং, বিডি ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি।