ডিএসই’র অর্ধেক লেনদেন প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতে

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে গতকাল মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন হয়েছে। ডিএসইএক্স ও ডিএস৩০ সূচক কমলেও ইতিবাচক ছিল ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক। অন্যদিকে লেনদেন বেড়েছে সাড়ে আট কোটি টাকা। গতকাল মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় ছিল অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। তবে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার আগ মুহূর্তে একশ্রেণির বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যস্ত করতে নতুন করে বিনিয়োগ করছেন। যার কারণে শেয়ারদরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। শুরুতে সামান্য ইতিবাচক থাকলেও এরপর বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। তবে শেয়ার কেনা ও বিক্রির মধ্যে ব্যবধান কম ছিল। যার কারণে ৪৪ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে আর কমেছে ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশের। গতকাল ডিএসইর অর্ধেক লেনদেনই হয়েছে প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতে। বাকিগুলোয় নামমাত্র লেনদেন হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ২৬ শতাংশ লেনদেন হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় প্রায় ২২৩ কোটি টাকা এবং ৫৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের বিবিএস কেব্লস, সিঙ্গার বিডি ও দেশবন্ধু পলিমার দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে। এসব কোম্পানির দর সাড়ে সাত থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সাড়ে ৪২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে বাজারে নেতৃত্ব দেয় বিবিএস কেব্লস। এছাড়া সিঙ্গার বিডির প্রায় ৩১ কোটি টাকার, আরএসআরএম স্টিলের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আরএসআরএম স্টিল কোম্পানির দর কয়েক দিন ধরে বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মুনাফা তুলে নেওয়া হয়। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় প্রায় ২১২ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ২৪ শতাংশ। এ খাতে ৫২ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। প্যাসিফিক ডেনিমস, ড্রাগন সোয়েটার, জাহিন স্পিনিং, দেশবন্ধু পলিমার ও প্রাইম টেক্সটাইল দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। এসব শেয়ারের দর সাড়ে সাত শতাংশ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্যাসিফিক ডেনিমসের প্রায় ২৭ কোটি, প্রাইম টেক্সটাইলের সাড়ে ১৭ কোটি, ড্রাগন সোয়েটারের ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আট শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে সাত শতাংশ লেনদেন হয়। জ্বালানি খাতে ৪২ শতাংশ এবং ওষুধ খাতে ৫৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ইউনাইটেড পাওয়ারের ২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। অ্যাম্বি ফার্মার দর বেড়েছে সাড়ে সাত শতাংশ। অপেক্ষাকৃত ছোট খাতগুলোর মধ্যে চামড়াশিল্প খাতে ৮৩ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৮৮ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। সেবা ও আবাসন খাত পুরোপুরি নেতিবাচক অবস্থানে ছিল। ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের দি পেনিনসুলা চিটাগংয়ের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।