ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা করল সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতার প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। নতুন আইন পাস হওয়ার পর এটিই এই আইনে করা প্রথম মামলা।
গ্রেফতাররা হলো পিরোজপুর ভাণ্ডারিয়া উপজেলার কালাম গাজীর ছেলে কাউসার গাজী, চাঁদপুর মতলবের জাকির হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া, মাদারীপুর কালকিনির হাসানুর রশীদের ছেলে তারিকুল ইসলাম শোভন, নওগাঁ পতœীতলার আলমের ছেলে রুবাইয়াত তানভির (আদিত্য) ও টাঙ্গাইল কালিহাতীর আনসার আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ইমন।
রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি করা হয়েছে বলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁসকারী এই প্রতারক চক্রের মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, বর্তমানে তারা প্রশ্ন ফাঁস করতে না পেরে নিজেদের মতো প্রশ্ন তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ‘১০০ ভাগ গ্যারান্টি’Ñএমন প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল।
নজরুল ইসলাম জানান, মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করত তার বন্ধু সোহেল মিয়া। সে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করত।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সিআইডিকে আরও জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরেই এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ করে আসছে। কিন্তু এবার প্রশাসনের তৎপরতায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারেনি, কিন্তু ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে ১০টি ফেক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেডিক্যালের প্রশ্ন পাওয়ার প্রচারণা চালায়। তারা ফেক প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বিভিন্ন সাজেশন বই, বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র একত্রে করে একটি ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে।
সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম টিম গতকাল রাজধানীর কাজলা পার, দনিয়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি মোবাইল ও একটি বিকাশ রেজিস্টার খাতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করে। একই দিন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টায় বাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আলিফনগর এলাকা থেকে তিনজনকে তিনটি মোবাইল ও দুটি ল্যাপটপসহ গ্রেফতার করা হয়।
বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে মামলা হয়েছে, সেটি তদন্তাধীন আছে। আমরা আশা করি এ প্রতারক চক্রের আরও কিছু সদস্যকে আমরা গ্রেফতার করতে পারব।