ডিজিটাল পদ্ধতিতেই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ সম্ভব: মোস্তাফা জব্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্টারনেট ও ফেসবুক বন্ধ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব নয়। বরং ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও শিক্ষার্থী মূল্যায়নে পরিবর্তন আনতে হবে। এছাড়া প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যে পরীক্ষা গ্রহণ করি, প্রশ্ন তৈরি করি ও প্রশ্ন তৈরি করা থেকে যে প্রক্রিয়ায় প্রশ্নটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়, এ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবেই পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে এত মানুষ যুক্ত যে, পুরো প্রক্রিয়াটির মধ্যে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দেওয়া যে কারও জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। এটা সত্যি সত্যিই দুরূহ। চার-পাঁচজন মানুষ থাকলে যে নিরাপত্তা দেওয়া সহজ, বেশি মানুষ থাকলে সেটা সহজ নয়।’

মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, ‘বস্তুতপক্ষে আমি যেটা বিশ্বাস করি, সেটি হচ্ছেÑযে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়, প্রশ্ন তৈরি হয় ও যে পদ্ধতিতে আমরা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটি নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। আমরা যদি না ভাবি, তাহলে শত শত বছরের পুরোনো পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে এসে অচল হতে পারে। আর যদি ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলেন, নিঃসন্দেহে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আপনাকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দেওয়ার মতো উপায় আছে। সেটা আমাদের হাতে আছে। তবে প্রয়োগ করাটা একটু বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, শিক্ষার্থী তো দু’চারজন নয়, লাখ লাখ শিক্ষার্থী, লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান, লাখ লাখ শিক্ষক। এদের মধ্য থেকে আমরা এরকম ব্যবস্থা করতে পারি যে, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে প্রাকটিক্যালি কারও পক্ষে প্রশ্ন ফাঁস করার কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে ইন্টারনেট বা ফেসবুক বন্ধ করা সমাধান নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এরকম একটি ধারণা আমাদের মধ্যে জš§ নিয়েছিল যে, ফেসবুকে ও ইন্টারনেটে প্রশ্ন ফাঁস করে। কিন্তু বিষয়টি খুবই সিম্পল; ফেসবুক, ইন্টারনেট, হোয়াটসঅ্যাপ প্রশ্ন ফাঁস করে না। এটি হয় মানুষের হাতে। ইন্টারনেটের ওপর দায়টা আসে; তার কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য থেকে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রচার করা হয়। সেক্ষেত্রে প্রচারের দায়টা যদি ইন্টারনেটের ঘাড়ে দিতে চান, তাহলে দেওয়া যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে ২০০৯ সালে। তখন থেকে আমাদের এখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। সে জায়গায় যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠা উচিত ছিল, সেভাবে এখনও গড়ে ওঠেনি। তবে ভালো দিক যে, আমরা আইনগত, অবকাঠামোগত দিক থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা তৈরি, ফরেনসিক ল্যাব তৈরি করা প্রভৃতি কাজ করেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হলে একটা এজেন্সি গঠন করতে পারব। এসব কাজ খুব দ্রুতগতিতে করার চেষ্টা করছি। আমরা চ্যালেঞ্জটি বুঝতে পারছি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা সরকারের আছে।’

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমরা যে কাউকে ট্রেস করতে পারি; কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তিতে যে রকম সরাসরি চিহ্নিত করার সুযোগ আছে, ফাঁকি দেওয়ারও সুযোগ আছে। রিয়েল আইপি অ্যাড্রেস থাকলে সহজে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাকে যে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ব্যাপার আছে।