ডিবিএল গ্রুপ

তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক টাইলস, সেমিকন্ডাকটর ডিজাইন (ভিএলএসআই), ফার্মাসিউটিক্যালস, সুইং থ্রেড, ডায়িং ফাইবার অ্যান্ড ইয়ার্ন, আইসিটি, টেলিকমিউনিকেশন প্রভৃতি খাতের করপোরেট সংস্থা ডিবিএল গ্রুপ। ১৯৯১ সালে পথচলা শুরু করে এই গ্রুপটি। বর্তমানে এই গ্রুপের অধীনে প্রায় ২৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ডিবিএল গ্রুপে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ। বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৪৫ দশমিক ৫০ কোটি ডলার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বে সুনাম রয়েছে ডিবিএলের। এ কারণে কেয়ার, ডিইজি, আইএফসি, জিআইজেড, আইএলও, ইউনিসেফের মতো অনেক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে গ্রুপটি। জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছে তারা। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রোগ্রাম ইউএন গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট ও দি বিজনেস কল টু অ্যাকশনের (বিসিটিএ) স্বীকৃতিও পেয়েছে।
সুনির্দিষ্ট দর্শন, সুপরিকল্পিত কর্মপন্থা ও মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত ডিবিএল গ্রুপ। এখানে কর্মরত সব কর্মী এ মূল্যবোধ নিজেদের মধ্যে ধারণ করেন, চর্চা করেন। সব সময় এ নীতিবোধ মেনে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। কর্তৃপক্ষ ও কর্মীর মধ্যে তাই স্বচ্ছ ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান। এখানে ব্যবসায় নৈতিকতা মেনে চলা হয়। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়। সহকর্মীদের কাজ ও দায়িত্বের ব্যাপারেও অবগত থাকেন একেকজন কর্মী। সততার সঙ্গে জবাবদিহির চর্চা চালু রয়েছে গ্রুপটির সব প্রতিষ্ঠানে। সবচেয়ে বড় বিষয়, কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা হয় এখানেÑউন্নত পদ্ধতি ও পরীক্ষিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়।
ডিবিএল গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানে করপোরেট গভর্নেন্সের চর্চা করা হয়। বিশেষ করে সহযোগীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে, অনুপ্রেরণা দিয়ে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চায় তারা। একইসঙ্গে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পণ্য ও সেবার গুণগত মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রাহক, সহযোগী এবং স্টেকহোল্ডারদের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট তারা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখা তাদের অন্যতম মিশন। তাই টেকসই ও বহুমুখী গ্রুপ হিসেবে স্বকীয়তা বজায় রেখে বিশ্বমানের সেবা দিতে বদ্ধপরিকর গ্রুপটি। শুধু তা-ই নয়, সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেয় তারা।
গ্রুপটিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল ওয়াহেদ। বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে সুপরিচিত তিনি। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে কনস্ট্রাকশন ব্যবসায় আসেন। ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এতিমখানা প্রভৃতির প্রতি তার দরদ অতুলনীয়। সুবক্তা হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন এমএ রহিম।
ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন এমএ জব্বার। কম্পিউটার সায়েন্সে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসেন। ডিবিএল গ্রুপে মার্কেটিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। তার উদ্ভাবনী শক্তি ও দক্ষতা গ্রুপটিকে অনন্য স্থানে নিয়ে গেছে। পরিচালনা পর্ষদে আরও রয়েছেন এমএ কাদের।
কর্মীদের জ্ঞানচর্চা ও দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে যোগ্য করে গড়ে তুলতে আগ্রহী কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের সমস্যা সমাধানে বিশেষ আগ্রহী তারা। কর্মীরা যেন পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত প্রণোদনা দেওয়া হয়। এখানে ভিন্ন মত, কাজ ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা হয়। একজন কর্মী যেন আরেকজন কর্মীর পাশে থাকেন, সে বিষয়ে মোটিভেট করা হয় সবাইকে। তাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ উপহার দিয়ে চলেছে ডিবিএল গ্রুপ। কর্তৃপক্ষের দূরদর্শিতা, কর্মীদের দায়িত্ববোধ গ্রুপটিকে তাই শীর্ষস্থানীয় করে তুলেছে।
সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসেবা নিশ্চিত করা হয় ডিবিএল গ্রুপের সব প্রতিষ্ঠানে। প্রযুক্তিসেবায় এ গ্রুপের পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও অন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এগিয়ে। ২০১৪ সালে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সঙ্গে এন্টারপ্রাইজ চুক্তি করে গ্রুপটি। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মাইক্রোসফটের লাইসেন্সিং সল্যুশন প্রোভাইডার (এলএসপি) টেক ওয়ান গ্লোবাল প্রাইভেট লিমিটেড ডিবিএল গ্রুপের জন্য সফটওয়্যার সরবরাহ করছে। এছাড়া মাইক্রোসফটের বিভিন্ন টিউটোরিয়াল সেটআপ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিসেবা দেয়। বাংলাদেশের অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাইক্রোসফটের এটাই প্রথম চুক্তি।

অর্জন
অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে ডিবিএল গ্রুপ। এরই কয়েকটি:

এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড, ২০১৮

ন্যাশনাল এক্সপোর্ট ট্রফি

সুপারব্র্যান্ডস অ্যাওয়ার্ড-২০১৮

ফিফথ এইচএসবিসি ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ডস-২০১৭

আইসিকিউসিসি গোল্ড অ্যাওয়ার্ড-২০১৭

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড-২০১৬

এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৪ ও ২০১৬

এইচঅ্যান্ডএম সাসটেইন্যাবিলিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৬

আইসিকিউসিসি গোল্ড অ্যান্ড সিলভার অ্যাওয়ার্ডস-২০১৬

ওয়ার্ল্ড টেক্সটাইল অ্যাওয়ার্ডস: ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল
ফার্ম অব দি ইয়ার-২০১৬

ওয়ার্ল্ড টেক্সটাইল অ্যাওয়ার্ডস: স্পিনার অব দি ইয়ার-২০১৬

সাসটেইন্যাবল পারফরমার অন ওয়েস্ট ওয়াটার
ম্যানেজমেন্ট, ডিক্যাথলন-২০১৬

সাসটেইন্যাবল পারফরমার অন এইচআরপি,
ডিক্যাথলন-২০১৫ ও ২০১৬

আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড: গোল্ড-২০১৫

বেস্ট ওয়েস্টওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ড,
ডিক্যাথলন-২০১৫

ওয়ার্ল্ড টেক্সটাইল অ্যাওয়ার্ড-২০১৫

সিপিআইটু টপ ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড-২০১৪

জেবিসিসিআই বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৪

সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৪

রতন কুমার দাস