সম্পাদকীয়

ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন হোক

সরকারের নীতিনির্ধারিত ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, সুশাসন ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। প্রতিরক্ষা, বিচার ও সংসদীয় অবকাঠামোকে এক্ষেত্রে এড়িয়ে চলা যায় না। এ লক্ষ্যে আয়োজিত এবারের ডিসি সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ডিসি সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাযথ উপায়ে বাস্তবায়ন কারতে পারলেই সম্মেলনের উদ্দেশ্য সার্থক হয়। ডিসি সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, সুশাসন ও সমৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য বছরব্যাপী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করি।
অতীতের ডিসি সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক নয়। এ ব্যাপারে নানামুখী সমালোচনার ভেতর দিয়ে বাস্তবায়নের হারে যে উন্নয়ন চিত্র দেখানো হয়, সেটা নিয়েও বিতর্ক রয়ে যায়। ২০১৫ সালের ডিসি সম্মেলনে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার দেখানো হয়েছিল ৯৫ শতাংশ। কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্পর্কিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের ৪০ শতাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালের সম্মেলনে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা যায় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায়। কিন্তু খাতা-কলমে ৯৮ শতাংশ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের ডিসি সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার দেখানো হয়েছে ৯৩ শতাংশ। খাতা-কলমের হারকেই যদি সঠিক বলে ধরে নিই, তবুও ২০১৮ সালের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কমে গেছে বলতে হবে। এই চিত্র নিশ্চয় স্থানীয় প্রশাসন তথা রাষ্ট্রীয় সুশাসন ও শৃঙ্খলার জন্য অগ্রগতির চিত্র উপস্থাপন করে না। অধিকন্তু যে সাত শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি, সেসব খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে মানতে হবে। এবারের সম্মেলনে সম্ভাব্য ৩৩৩টি প্রস্তাবনার আলোকে যে সিদ্ধান্তগুলো আসবে সে সিদ্ধান্তে নিশ্চয় গতবারের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হতে হবে। প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীপ্রধান ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের উপস্থিতিতে পাঁচ দিনের মোট ২৯টি অধিবেশন আগের যে কোনো সম্মেলনের চেয়ে কার্যকরী হবে বলে আশা করা যায়। স্থানীয় সরকার, জনপ্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা এবারের সম্মেলনকে যেহেতু সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে বলে প্রতিভাত হচ্ছে, সেহেতু আগামী বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইন-শৃঙ্খলা, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ও পারিবৈশিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, সুশাসন ও সমৃদ্ধিতে দৃশ্যমান উন্নয়ন জনগণ উপভোগ করবে বলে আশা করা যায়।
সর্বোপরি গত বছরের কার্যভার বাস্তবায়নের হার মূল্যায়নপূর্বক সামনের বছরের গৃহীত সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নের যথাযথ কৌশল এই সম্মেলনে গৃহীত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */