ডিসেম্বরে বাজার ধীরগতির হয়

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ডিসেম্বরে মুনাফা সংগ্রহ করতে চায়। এ সময় শেয়ার কেনার প্রবণতা কম থাকে। তাই ডিসেম্বরে বাজার কিছুটা ধীরগতিতে চলে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রফিট সংগ্রহ করলেও সঙ্গে সঙ্গে আবার একই শেয়ার কিনে রাখে। এছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আচরণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের থেকে আলাদা। কারণ তারা যে শেয়ারের দর বাড়ে সেদিকে ঝোঁকেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ারটির পতন হয়, সেটি কেনে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। মোশতাক আহমেদ সাদেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও মোহাম্মদ আলী, এফসিএ এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হাসান মাহমুদ বিপ্লব।

মোহাম্মদ আলী বলেন, অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ডিসেম্বরে কিছুটা প্রফিট সংগ্রহ করতে চায়। এ সময় শেয়ার কেনার প্রবণতা কম থাকে। ফলে ডিসেম্বরে বাজার কিছুটা ধীরগতিতে চলে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রফিট সংগ্রহ করলেও সঙ্গে সঙ্গে আবার একই শেয়ার কিনে রাখে। এছাড়া বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও অনেক। আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর আচরণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের থেকে আলাদা। কারণ তারা যে শেয়ারের দর বাড়ে সেদিকে ঝোঁকেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ারটির পতন হয়, সেটি কেনে। তারা কী পরিমাণ প্রফিট করবে তা বছর শেষে একটি পরিকল্পনা করে রাখে। আর এ পরিকল্পনাটি যদি জুন-জুলাইয়ে শেষ করতে পারে তাহলে তার বছরের লক্ষ্য অর্জিত হয়ে যায়। যেমন আমার যে প্রফিট লক্ষ্য ছিল, তা জুলাই মাসে অর্জিত হয়ে গেছে। এখন আমি হয়তো ধীরে ধীরে বিক্রি করছি এবং অন্যরাও তা করছে। তাছাড়া পুঁজিবাজার খারাপ থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে। এছাড়া ডিসেম্বরে এক্সপোজারের একটি ব্যাপার থাকার কারণে আমরা হয়তো অনেকেই কিছুটা ধীরগতিতে চলি। তবে উত্তম দরে ভালো শেয়ার পেলে কিনে রাখি। আমাদের লক্ষ্য থাকে কেনার সময় লাভ করা, বিক্রয়ের সময় নয়।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, ডিসেম্বর মাসে কোনো নতুন লোন দেওয়া হয় না, শুধু সমন্বয় করা হয়। আর একটি বিষয় হচ্ছে, ব্যাংকে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আর্নিং যা থাকে, তা থেকে শেষ প্রান্তিকে কিছু ব্যাংক অসম্ভব ভালো করে। এখন আমেরিকায় অধিকাংশ ফান্ড ম্যানেজার ক্লোজিং হচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে। ফলে তারা বিক্রয় প্রবণতায় চলে গেছে। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর ফান্ড ডিসেম্বরে হাফ ইয়ারলি। হাফ ইয়ারলির মুনাফার ওপরই মানুষ জুন ক্লোজিংয়ের জন্য কিনবে। ফলে তখন খারাপ দেখালে এবং শুধু কেনাবেচা করলে অন্য শেয়ারগুলোর দর কিছুটা কম দেখা যাবে। আর এটির ক্লোজিং হবে ৩০ ডিসেম্বর। ৩১ ডিসেম্বর বন্ধের দিন। জানুয়ারির ১ তারিখে অধিকাংশ ব্যাংকের আন-অফিসিয়াল রিপোর্ট আমরা পেয়ে যাব। আর এটি বাজারকে কিছুটা উন্নত করবে। এছাড়া আমাদের মেয়র নির্বাচন ফেব্রুয়ারির মধ্যে হতে হবে। আর ঢাকার মেয়র নির্বাচনের আগে অবশ্যই পুঁজিবাজার ভালো হয়। কারণ ঢাকা উত্তরে অন্তত পাঁচ-ছয় লাখ বিও অ্যাকাউন্ট আছে। সারা দেশের অর্ধেক বিনিয়োগকারী শুধু ঢাকায়।

ফলে মেয়র নির্বাচন পুঁজিবাজারের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দিক।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম