ডেসটিনি কেন বিলুপ্ত হবে না জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড অবসায়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মস ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম আর হাসানের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বার্র্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানে বিলম্ব মার্জনা ও সাধারণ সভা করতে ডেসটিনির অনুমতির বিষয়ে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম সিদ্দিকুর রহমান খান। রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিস অ্যান্ড ফার্মসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একেএম বদরুদ্দোজা।
বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের জানান, ২০১২ সাল থেকে ডেসটিনির বার্ষিক সাধারণ সভা বন্ধ রয়েছে। কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ৮১(২) ধারা অনুযায়ী কোনো কোম্পানি এক বছর বার্ষিক সাধারণ সভা করতে না পারলে আদালতে বিলম্ব মার্জনা করে পরবর্তী বার্ষিক সাধারণ সভা করার অনুমতি নিতে হয়। কোম্পানি আইনের ৮৫(৩) ধারা অনুযায়ী বিলম্ব মার্জনা চেয়ে কোম্পানির কোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারবেন। সে অনুযায়ী সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদ এবং পাঁচ অংশীদার হাইকোর্টে আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারক এ আদেশ দিয়েছেন আগামী ৪ জুলাই আদালতে আবার মামলাটি উঠবে বলে।
এ আইনজীবী আরও বলেন, যে ছয়জন আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদ শর্তসাপেক্ষে জামিনপ্রাপ্ত। জামিনের শর্ত ছিল মামলার তদন্ত পর্যন্ত তিনি এ কোম্পানির কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখবেন না। তদন্ত শেষ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলা নেই। ফলে তিনি আদৌ আবেদন করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এজিএমের আবেদনেই উল্লেখ আছে ছয় বছর ধরে কোম্পানির হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) হয় না। এ প্রতিবেদন না থাকলে বার্ষিক সাধারণ সভা কীভাবে হবে?
বদরুদ্দোজা জানান, ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানির পরিচালক রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন কারাগারে আছেন। চারজন পলাতক আর একজন শর্তসাপেক্ষে জামিনে। দুদকের মামলায় কোম্পানির সব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এমনকি কোম্পানির ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জব্দ করা সেসব সম্পদ তত্ত্বাবধানের জন্য তত্ত্বাবধায়কও নিয়োগ করেছে সরকার। সব মিলিয়ে দুদকের মামলায় ছয় বছর ধরে কোম্পানিটির সব কার্যক্রমই প্রায় বন্ধ।