করপোরেট টক

ড্যাফোডিল কম্পিউটারস

ড্যাফোডিল কম্পিউটারস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সাবেক সভাপতি
মো. সবুর খান এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৮ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করে এর নাম রাখা হয় ‘ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড (ডিসিএল)’। ২০০৩ সালে আইটি খাতের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত হয় ডিসিএল। প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার অ্যাসেম্বিলিং, বিপণন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় ড্যাফোডিল কম্পিউটারস।
কম্পিউটার অ্যাসেম্বিলিং ও বিপণন প্রধান ব্যবসা হলেও পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার ট্রেনিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ওপর গুরুত্ব দেয় ড্যাফোডিল কম্পিউটারস। এজন্য ১৯৯৭ সালে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ উইং ও ১৯৯৮ সালে একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট উইং চালু করে। ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (ডিআইআইটি) ও ড্যাফোডিল সফটওয়্যার লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস িি.িফধভভড়ফরষ-নফ.পড়স।
১৯৯৭ সালে গ্রাহকের চাহিদা পূরণের জন্য রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে প্রথম শাখা স্থাপন করে ও দ্বিতীয় শাখাটি স্থাপন করা হয় বনানীতে।
যুক্তরাজ্যের এনসিসি এডুকেশনের সহায়তায় ডিআইআইটি মাত্র সাতজন ছাত্র নিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু করে। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান এই ডিআইআইটি। এনসিসি এডুকেশনের সহায়তায় ডিআইআইটি শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করে চলেছে। এখান থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশ্বের নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। পরবর্তীকালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে ৪০টি দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা অর্জন করে ডিআইআইটি। স্নাতক পর্যায়ে বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স পরিচালনার জন্য লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির (এলএমইউ) অনুমোদন পায় ডিআইআইটি। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য কম্পিউটার ল্যাব, সাইবার ক্যাফে, ইন্টারনেট সুবিধা, গ্রন্থাগার প্রভৃতি রয়েছে এখানে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ, প্রোগ্রাম, অভিজ্ঞ শিক্ষক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য করে তুলেছে।
১৯৯৮ সালে গ্রাহকের উন্নত সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কম্পিউটার ক্লিনিক চালু করে ডিসিএল। বর্তমানে দেশে এর চারটি শাখা রয়েছে।
মো. সবুর খানের নেতৃত্বে ২০০০ সালের মে মাসে ই-কমার্স ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট খাতে একটি উইং চালু করা হয়। একই সময় দেশে তৈরি একটি নতুন ব্র্যান্ডের পারসোনাল কম্পিউটার বাজারজাত করে ডিসিএল। এর নাম রাখা হয় ড্যাফোডিলপিসি। এই পিসির সব উপাদান ডিসিএলের তৈরি। অর্থাৎ ওইএম বা অরিজিনাল ইকুইপমেন্টস ম্যানুফ্যাকচার পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও বাজারজাত করছে ডিসিএল। গুণগত মান ও সেবার কারণে দেশজুড়ে এর চাহিদা রয়েছে। উন্নত মানের সেরা পণ্য, সাশ্রয়ী দাম ও চমৎকার গ্রাহকসেবার কারণে বাংলাদেশের আইটি খাতে আস্থায় পরিণত হয়েছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস। সংগত কারণে তাদের গ্রাহক তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি অর্থায়নে চালিত কয়েকটি প্রকল্প, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের আইসিটি খাতে ডিসিএলের অনেক অবদান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
# প্রথম ক্লোন পিসি অ্যাসেম্বিলিং (১৯৯১)
# প্রথমবারের মতো ক্লোন পিসির বেলায় ওয়ারেন্টি সুবিধা (১৯৯২)
# প্রথবারের মতো ‘কম্পিউটার সুপারস্টোর’ ধারণার প্রবর্তন (১৯৯৬)
# এইচপি বাজারজাতকরণ
# তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শিক্ষাদান
# চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ওয়েবসাইট চালু করা (১৯৯৯)
# তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইএসও ৯০০২ সার্টিফিকেট অর্জন (১৯৯৯)
# দেশে আইটিনির্ভর আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (২০০২)
# ২০০৩ ও ২০০৪ সালে বাংলাদেশে খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়া ক্রিকেট দলকে কারিগরি সহায়তাদান।

সদস্য ও অংশীদারিত্ব
১. অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল
২. মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার
৩. আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম)
৪. বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনস অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)
৫. বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)
৬. বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট
৭. দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)
৮. ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)
৯. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
১০. চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ
দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এ অবস্থানে এসেছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড (ডিসিএল)। এ পথ পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি সব সময় গ্রাহককে উন্নত সেবা দিয়ে এসেছে। গ্রাহকের সময়, চাহিদা ও আর্থিক বিষয়াদি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ প্রতিষ্ঠান। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস।

রতন কুমার দাস

সর্বশেষ..