সর্বশেষ সংবাদ

ঢাকার পরিস্থিতি যেন না হয় চট্টগ্রামে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৭৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করে বাস-মিনিবাস তথা গণপরিবহন। তবে সড়কে যে পরিমাণ গাড়ি রয়েছে, গণপরিবহন তার মাত্র আট শতাংশ। সেখানকার সড়কে যেসব গাড়ি চলে, তার ৫৬ শতাংশেরই আকৃতি ছোট। ওইসবে যাতায়াত করে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ। এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ‘চিটাগং স্ট্র্যাটেজিক আরবান ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান’ শীর্ষক কর্মশালায়। বুঝতে অসুবিধা হয় না, বাণিজ্যিক নগরীতেও সম্প্রতি যানজট বেড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে প্রধানত এ কারণ। এতে ওখানকার মানুষের জীবনেও বাড়ছে ভোগান্তি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। আমরা মনে করি, চট্টগ্রামে যাতে ঢাকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটা এখনই নেওয়া দরকার এজন্য যে, বিভিন্ন কারণে ওই নগরীতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। সুপরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমানগুলো সুব্যবস্থাপনার আওতায় আনা না হলে সেখানেও পরিস্থিতি দ্রæত আরও জটিল রূপ ধারণ করবে।

চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা আসছে, তাদের সিংহভাগের আগমন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। অর্থনীতির কেন্দ্রমুখে মানুষের এ আগমন প্রবণতা স্বাভাবিক। সন্দেহ নেই, ঢাকার তুলনায় এখনও কিছুটা ভালো আছে চট্টগ্রাম। এজন্য সেখানে যেতে চাইবে কিছু মানুষ। বলা যায়, রাজধানীর জীবনযাত্রায় উন্নতি ঘটানো না গেলে তার প্রভাব চট্টগ্রামেও পড়বে। তবে এটা ঠিক, ঢাকার পরিকল্পনাহীনতার প্রভাব এর আশপাশের জেলাগুলোয় যতটা পড়েছে, চট্টগ্রামে ততটা পড়েনি। ঢাকায় আশপাশের সব জেলার সঙ্গে রেলের মতো গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে এখন। চট্টগ্রামে সে সুযোগ অবশ্য রয়ে গেছে। নগরীটি ঘিরে পরিকল্পিত উপায়ে এমন গণপরিবহন গড়ে তোলা হলে দীর্ঘ মেয়াদেও এর সুফল পাবে অর্থনীতি। বস্তুত এমন উদ্যোগ থাকা দরকার দেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে। মানুষ যদি কাজ শেষে সহজে ও কম খরচে বাড়ি ফিরতে পারে, তাহলে তার জীবনযাত্রার ব্যয়ও কমানো সম্ভব।

রাজধানীতে যানজটের কারণে প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় তিন শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ তথ্য এখন অনেকের জানা। চট্টগ্রামেও একই কারণে বড় রকম ক্ষতি হচ্ছে অর্থনীতির। ভবিষ্যতে উন্নয়নকেন্দ্রের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হলেও প্রথমে নজর দিতে হবে চট্টগ্রামে। এজন্য ওখানে নগরায়ণের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের হতে হবে দূরদর্শী। মনে রাখা দরকার, নগরীতে যানজট কমাতে ব্যক্তিগত ও ছোট গাড়ির ব্যবহার রাখতে হবে সুনিয়ন্ত্রণে। প্রতিটি বাড়ি, ব্যবসাকেন্দ্র এমনকি স্কুলে বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে গাড়ি পার্ক করার ব্যবস্থা। এও মনে রাখা প্রয়োজন, বিকাশকালে কোনো নগরীকে যদি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা না যায়, পরে কাজটি হয়ে পড়ে বেশ কঠিন।

কোনো নগরীকে পরিকল্পিত উপায়ে গড়ে তোলার জন্য এর স্থানীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। এটা না থাকলে জনভোগান্তিই শুধু বাড়ে না, অর্থেরও অপচয় হয়। উন্নয়নের গতিও কমে যায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। চট্টগ্রামে এ সমন্বয় যে অনুপস্থিত, এটা বোঝা যায় গণপূর্ত ও গৃহায়ণমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাস্তবতা হলো, সংস্থাগুলো যদি স্ব-উদ্যোগী হয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় না করে, তাহলে কাজটি হয়ে পড়বে কঠিন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাজ সমন্বয়ে মন্ত্রণালয় ভ‚মিকা রাখতে পারে কি না, সেটাও ভেবে দেখতে হবে নীতিনির্ধারকদের। সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থহানি ঘটতে পারে। এজন্যও এটার বিরোধিতা করতে পারেন অনেকে। এটা গ্রাহ্য করা চলবে না। আমরা চাইব, চট্টগ্রামের মতো নগরীতে প্রয়োজনে গড়ে তোলা হবে সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ। অপরিকল্পনা ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকাকে আমরা যেভাবে বাসের অযোগ্য নগরীতে পরিণত করেছিÑচট্টগ্রামের সে অবস্থা না হোক।

 

 

সর্বশেষ..