তত্ত্বকথন ও তৃষ্ণার্ত প্রান্তর

অনাথ শিশুর মতো যার জীবনখানি নিস্তরঙ্গে নিথর হতে পারতো নিযুত জীবনের নিঠুর নিয়তিপাশে তিনিই জুগিয়েছেন হৃৎস্পন্দনের খোরাক। দেশের জন্য লড়েছেন। শূন্য জমিনে গড়েছেন ব্যবসাকাঠামো। জীবনের সব অর্জন লিখে দিয়েছেন সাধারণের নামে। তিনিই দেশের সবচেয়ে সফল ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান ‘কুমুদিনী ট্রাস্ট’-এর জনক রণদা প্রসাদ সাহা। নারীশিক্ষা ও চিকিৎসায় নারী-পুরুষ কিংবা ধনী-গরিবের ভেদ ভেঙেছেন। তার জীবনে রয়েছে সসীমকে ডিঙিয়ে অসীমে শক্তিসঞ্চারের প্রয়াস। এ জীবন ও কেতন যেন রোমাঞ্চিত হৃদয়েরই উদ্দীপ্ত প্রেরণা। * পর্ব: ১

মিজানুর রহমান শেলী: লৌহজংয়ের তীরঘেঁষা সাহাপাড়া। দক্ষিণে ঢাকা, উত্তরে ময়মনসিংহ। ঐতিহ্যবাহী দুই জেলা। তবু মির্জাপুরের সাহাপাড়া নামটি ছিল প্রকৃতির চৌকাঠে ক্লিষ্ট মানুষের হাঁসফাঁস। মির্জাপুরের এ পাড়াতেই বেড়ে ওঠেন রণদা প্রসাদ সাহা। তার জন্ম হয়েছিল ঢাকা জেলার সাভারের অদূরে শিমুলিয়ার কাছৈড় গ্রামে। সালটি ছিল ১৮৯৬। ১৫ নভেম্বর। বাংলা ১৩০২ সনের উত্থান একাদশী, বেলাটা ঠিক যখন মাথার ওপর। চঞ্চল কিন্তু নিস্তব্ধ গ্রাম্য দুপুর। এ দুপুরের মতোই তিনি ছিলেন দুরন্ত, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, মেধাবী ও মননশীল এক মানুষ।

বঞ্চিত কিন্তু দরদি, স্বপ্নচারী, স্বনির্মিত, সৃজনী আর সাহসী মানুষটি একজন সফল ব্যবসায় উদ্যোক্তা। বলতে হয় তিনিই বাংলার ব্যবসায় উদ্যোক্তাদের পথের দিশারি পুরোধা। তবে রণদার বিশাল পরিধি আরও অনেক বিস্তারধর্মী। তিনি যতটা বণিক, তার চেয়ে বেশি দেশ-মাটি আর জননী-জনতার প্রেমিক। তাই বিশ্বসংসারের হরেক মানুষের ভিড়ে নানা শ্রেণিরূপের মধ্যে তাকেও কোনো না কোনো শ্রেণিতে খাপবদ্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু তার স্বরূপ আঁকতে গেলে, কাঠামো-ব্যাস মাপতে গেলে, প্রকৃতি আর যুগের ফ্রেমে তার জীবন ও কীর্তিকলাপের ব্যবচ্ছেদ করতে হয়। তার জীবনের সবচেয়ে বড় বয়ানজুড়ে বিধৃত হয়েছে মানবপ্রেম। আর্থিক কর্মকাণ্ডে পুঁজি খাটানো, উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে আবারও বড় বিনিয়োগ এবং একসময় উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার অন্তরায় ছিল ব্রিটিশ-ভারতের আর্থ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। রণদা প্রসাদ সাহার কর্ম বিচার করলে সে পরিপ্রেক্ষিতের খতিয়ান হাজির করা যায়। তবু তিনি তৎকালের বিরুদ্ধ পরিবেশে নিজেকে নির্মাণ করে মাটি ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। ইতিহাস থেকে নিষ্কাষিত সেই বয়ানে রয়েছে তার জীবন ও কেতনের অনন্য আখ্যান।

ইতিহাসের দিঘল সীমানা বিচারে রণদা খুব প্রাচীন নন। কিন্তু তার ইতিবৃত্ত এখন কেবল কিছু মানুষের মুখে মুখে সংরক্ষিত। অতিসামান্য তথ্যই পাওয়া যায়। জীবদ্দশাতে, তিনি নিজ জীবনের কোনো অধ্যায় লিখে রাখার উদ্যোগ নেননি; আবার কেউ তার পুরোটা জীবনের গল্প, অনুভূতি ও চিন্তাকে লিপিবদ্ধ করেননি। এগুলো তাই অসংরক্ষিত। উপরন্তু তার সম্পর্কে বলতে পারা মানুষের সবাই ভুলে যাওয়া বয়সে পৌঁছে গেছেন। এমনকি তারাও রণদা প্রসাদের চেয়ে অন্তত ৩০-৩৫ বছরের ছোট। সরাসরি কাজের সম্পর্ক থাকলেও সামগ্রিক জীবন নিয়ে তাদের ধারণা নেই। কেননা রণদা কলকাতা, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জÑএ তিন এলাকায় কাজের প্রয়োজন ছুটে বেড়িয়েছেন। এক জায়গা স্থির হতে পারেননি। ফলে তথ্যদাতারা তার জীবনের খণ্ডাংশের সাক্ষী হতে পারেন মাত্র। ফলে তথ্য-উপাত্তের স্বল্পতা বা সংকট রণদার জীবনী রচনায় একটি সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়ায়।

ধারণা, এমনকি ভালো কিংবা মন্দ লাগার জায়গা থেকে একেকজন একেকভাবে তাকে বর্ণনা করে থাকেন। নিন্দিত নিবেদন ম্লান করতে পারে মহৎ জীবনের প্রেরণা। একইভাবে, প্রশংসনীয় কীর্তিকলাপের কীর্তন যদি সঠিকতাকে ছাপিয়ে গিয়ে বিশেষণের বাগাড়ম্বরে নিপতিত হয়, তখন তা হয়ে পড়ে রূপকথা। তাই ওই সমাজের বাতাবরণের মধ্যে রণদা প্রসাদ সাহার জীবনকে গবেষণা প্রণালীর সাহায্যে সংশ্লেষ ও বিশ্লেষ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

একটি জীবনকে পদ্ধতিগত উপায়ে গবেষণার প্রয়োজনে তাত্ত্বিক কাঠামোয় ফেলা যেতে পারে। তবে কোনো প্যারাডাইমে ফেলে কারোর গায়ে কোনো বিশেষ তকমা জড়িয়ে দেওয়াটা ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা ও স্বাতন্ত্র্য পরিপন্থি ব্যবস্থা। একজন রণদার বেড়ে ওঠা পরিবেশ, তার পৈতৃক পেশা ও আর্থিক অবস্থা, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তিগত শ্রেণিমানÑএসব বিচারে হয়তো তাকে নিম্ন বর্গীয় বা সাবলটার্ন শ্রেণিতে আবদ্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু বাহাসের মাদুর মাতিয়ে সব দায় মেটে না। গবেষণার দায়বোধও মীমাংসা হয় না। বরং প্রয়োজন হয় তত্ত্বের পরীক্ষণ।

ইতালির সুবলতের্নো বা ইংরেজির সাবলটার্ন শ্রেণিকে গ্রামশি সর্বহারা শ্রেণি বুঝিয়েছেন। তার বিপরীতে রয়েছে হেজিমনিক বা আধিপত্যকামী শ্রেণি, যাকে বুর্জোয়া বলা হয়। এখানে পুঁজিই কেবল মানদণ্ড। আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কালপর্ব বিশ্লেষণে পুঁজিকে অতিক্রম করে শ্রেণিবিভক্ত সমাজকাঠামো স্থান পেয়েছে। যেখানে ক্ষমতার প্রশ্নে নি¤œ শ্রেণিকে নি¤œবর্গীয় আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তবে রণদার প্রথম জীবনকে আমরা নিম্নবর্গীয় বলব কি বলব না, সে বাহাসে আসতে গেলে, নিতান্ত সাবলটার্ন স্টাডিজের পুরোধা পণ্ডিত রণজিৎ গুহ’র ধারণায় আসতে হয়। কেননা তিনি তার ধারণার এক বিশাল পরিধিজুড়েই ভারতে ব্রিটিশ শাসনের পরিপ্রেক্ষিত ব্যবচ্ছেদ করেছেন। অবশ্য এদিক দিয়ে গ্রামশির সাবলটার্ন ধারণার পরিপ্রেক্ষিতটা প্রাসঙ্গিকতার বয়ানে দ্বান্দ্বিক হয়ে ওঠে। কার্যত গ্রামশির আলোচনায় ছিল ইতালি। বিশ শতকের গোড়ার দিকে সেখানে সামন্তশ্রেণির প্রভুত্ব আর শ্রমিকশ্রেণির অধীনতা নিয়ে জ্বলজ্বলে প্রশ্নগুলোই তিনি তুলে ধরেন। সেই আলোচনায় কর্তৃত্বের অধিকার, শাসনের অধিকার, প্রভুত্বের অধিকার এ ধারণাগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য অঙ্কিত হয়নি। তাই রণদার প্রশ্নে রণজিৎ গুহ’র আলোচনা প্রাসঙ্গিক। তার অভিধায় শহরের শ্রমিক, দরিদ্র, উচ্চপদস্থ আমলাদের বাইরে যারা মধ্যবিত্ত, গ্রামের ক্ষেতমজুর, চাষি ও গরিবরা ছিলেন ব্রিটিশ আমলে ভারতের নিম্নবর্গীয় শ্রেণি।

এ শ্রেণিকাঠামো নির্মিত হয়েছিল ব্রিটিশদের পরিকল্পিত চিন্তায়। তারা অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন উপায়ে একদিকে কর্তৃত্বকামী জমিদার শ্রেণি আর অন্যদিকে অধীনত শ্রেণি তৈরি করল। ব্রিটিশ আমলের বিশ শতকের গোড়ার দিকের কথা: এ সময়েই রণদার প্রথম জীবনের সংগ্রামী অধ্যায়। এই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে ভারতবাসী স্বাধীনভাবে ব্যবসায় অংশ নিতে পারেনি। তবে তাদের প্রচেষ্টা ছিল নিরন্তর। এ প্রচেষ্টা প্রায়ই বিদ্রোহে রূপ নেয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ধারণা ছিল অনেক বেশি রাজনৈতিক। এর সঙ্গে ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা তেমনিভাবে জড়িত ছিল না। একচেটিয়া ব্যবসাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। ভারত ছিল তাদের পণ্য উৎপাদনে কাঁচামালের উৎসভূমি এবং প্রধান মুক্তবাজার। ফলে ব্রিটিশ পুঁজিপতি লগ্নিকারীরা ব্যাংক ও শিপিং খাতে এ দেশের একচেটিয়া ব্যবসায়িক সুবিধাদি দারুণভাবে উপভোগ করতে থাকে। তাছাড়া এখানকার শ্রমবাজার ব্রিটেনের উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিশেষভাবে নজর কাড়ে। তাই তারা তাদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থার জন্য এ দেশের আঞ্চলিক উন্নয়নের দিকে উদাসীনতা এমনকি শোষণের নীতি অবলম্বন করে। এ দেশের পোশাকশিল্পের কারিগরদের জন্য তারা উন্নত কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেনি। এমনকি তারা এ দেশের পোশাকশিল্পকে নিরাপত্তা না দিয়ে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

তারা এ দেশে সেনা-বুর্জোয়া শ্রেণি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেনা শোষণের সামাজিক অবয়ব গড়ে তোলে। ফলে সরকারের অর্থনৈতিক বোঝা হালকা হলো। পাশাপাশি জমিদার, পুঁজিপতি ও সদ্য গজে ওঠা পেশাদার সমাজের জন্য একটি বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে ফুলে-ফেঁপে ওঠে, আর এ দেশিরা অর্থনৈতিক জাঁতাকলে পিষ্ট হতে থাকে। প্রাসাদ আর হেরেমখানায় বিলাসী ভোক্তাদের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ল। ফলে ভোক্তাশ্রেণি বলতে থাকল কেবল সদ্য গজানো উচ্চ শ্রেণি যারা মসলিন ও ডামাসেন্ড তরবারি ব্যবহার করত না। ফলে ওই সময়ের ভারতে মোগল প্রথানুযায়ী যাবতীয় লগ্নি ধ্বংস হয়ে গেল। সরকার রেল ও কৃষিতে নিজেই উৎপাদনমুখী নানা ধরনের লগ্নি করতে থাকল। ফলে নতুন লগ্নি ও তার ভোক্তাশ্রেণিকে ঘিরে পশ্চিমা ধাঁচের জীবনাচার গড়ে উঠল। নতুন নতুন ইংলিশ স্কুল, শহর-নগরীয় পরিবেশ এবং আইনজীবী, ডাক্তার, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠল। আর পুরোনো ব্যবসায়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সমাজকাঠামো ধ্বংস হতে থাকল। আবার তারা তাদের এ শিক্ষাব্যবস্থা খুব সীমিত পরিসরে গণ্ডিবদ্ধ রাখল। তাছাড়া গ্রাম-সমাজে আর কোনো পরিবর্তন বা উন্নয়ন ঘটল না। তারা আরও বেশি অবহেলা আর নির্যাতনের মধ্যে দিনাতিপাত করতে থাকল।

গ্রামে বেড়ে ওঠা রণদা বা তার পূর্বপুরুষের জীবনমান ছিল এমনই শোচনীয়। রণদা জীবদ্দশার প্রথম প্রহরে শহুরে পরিবেশে দিনমজুর, কুলি, শ্রমিক এমনকি পত্রিকা বিক্রির পেশায় খোরপোশ মিটিয়েছেন। এই অর্থে তাকে রণজিৎ গুহ’র প্যারাডাইমে নিম্নবর্গের ফ্রেমে আবদ্ধ রাখা যায়। কিন্তু তার জীবনের বিচিত্র পেশা, দিগন্তের পরে দিগন্ত মাড়িয়ে বহু সীমান্ত ছুঁয়ে যুদ্ধের দামামা বাজানো কিংবা ধনী-গরিব, মালিক-শ্রমিক, শহুরে-গ্রামীণ, সাদা-কালো, আধিপত্যকারী-অধীন সবার সঙ্গে জুতবদ্ধ হওয়ার ঘটনাগুলো এমন একটি কাঠামো নির্মাণ করে, যা কোনো সাধারণ প্যারাডাইমে নিষ্কাষণ করা চলে না।

তাছাড়া রণদার পরিবারের আর্থিক ক্লিষ্টতা রণদাকে পথের ছেলেতে পরিণত করেছিল এটা সত্য। কিন্তু রণদার বাবা ও দাদা করটিয়ার জমিদারদের পোদ্দারি করতেন। দলিল-দস্তাবেজের কাজেও ছিলেন তারা। তাদের পোদ্দারির পরিধি বেশ একটা ছিল না। তাই তাদের পোদ্দারি সম্মান থাকলেও আর্থিক টানাপড়েন ছিল নিয়ত। এমনকি রণদা তার কঠিন জীবনযুদ্ধের কালে বড় হওয়ার সংগ্রাম করেছেন, কিন্তু নিজেকে নিম্ন বা নীচু ভেবে সংকোচের বিহ্বলতায় অপমানিত হননি। এ সূত্রে তাকে একজন নিম্ন বর্গীয় মানুষ বলা চলে না। একজন রণদাকে রণদার মডেলেই মাপতে হয়।

তবে শূন্য থেকে বড় ব্যবসায় উদ্যোক্তা হওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল অনন্য। এই তুলনারহিত উদ্যোক্তা-জীবনেই তার জীবনখানি আটকে থাকেনি। প্রথম জীবনে যেমন তিনি বঙ্গভঙ্গবিরোধী তথা স্বদেশি আন্দোলনে নিজেকে সাগ্রহে যুক্ত করেছেন। তার হƒদয়ের রুধির ধারাকে বারবার শানিত করার নেশায় কিংবা দেশের তরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তারপর ঘরে ফিরেছিলেন আপন হিয়ার প্রশান্ত প্রবল প্রমত্ত ধারায় উচাটন জাগাতে; তখন প্রিয়ার কালো চোখ স্ফুরিত হয়েছিল। তবু আবার নগ্ন পা দুখানি মাড়িয়ে ঘর ছেড়েছেন, সংসার সুখের খোশ-খোরাকের  খোঁজে। এক মুঠো ভাতের দায় মেটাতে গিয়ে যুক্ত হয়েছেন ব্যাপারিবৃত্তিতে। অপরিচয় থেকেও তিনি পরিচিত হয়েছেন স্বাধীন বণিক পরিচয়ে। এ পরিচয়েই তার জীবন শান্ত হতে পারত তথা ওই ধনাঢ্য যাপিত জীবনের অষ্টপ্রহরে তার চিত্ত-চেতন আপ্লুত হতে পারত। কিন্তু সে আড়ষ্ট জীবনে তিনি আচ্ছন্ন হননি।

তৃষিত বাংলার সমাজ-জমিনজুড়ে ছিল অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কার আর সংকুচিত অবয়ব। এ পশ্চাৎপদতার গ্লানি মুছে দিতে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজ জীবনের যাবতীয় অর্জন। এটা ছিল জীবনের দায়, সমাজের দায়। তাই তা মেটাবার উদ্দেশ্যে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন সন্তর্পণে, আবার সরবে।

এ জীবনের তত্ত্বকথন তালাশ করতে তাই কাঠামোগত কোনো প্যারাডাইম ব্যবহার করা যায় না। মানবপ্রেম, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, আর্তের সেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানগত সুযোগ সৃষ্টি এবং নারীমুক্তির ইষ্টচিন্তায় তার অনুক্ষণ কেটেছে। এ কল্যাণকর অনুধ্যানই তার দর্শন। তাই তার জীবনকে তার নিজ জীবন ও কর্মের ধারণাতে ফেলেই গবেষণা করা চলে। কেবল ব্রিটিশ ভারতের তৃষিত-তৃষ্ণার্ত প্রান্তরকেই গল্পের ক্যানভাস ধরে তত্ত্বের ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে এ গবেষণাকাজে।

 

গবেষক, শেয়ার বিজ

mshelleyjuÑgmail.com