তথ্যপ্রযুক্তি বিদ্যুৎ ও আবাসনে বিনিয়োগ করবে সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিকভাবে তাদের ৫০০ একর জমি বরাদ্দের কথা বলেছেন। সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ সন্তোষজনক হলে জমির পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। দেশটির উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও আবাসন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশে সফররত সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান বাণিজ্য চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। আগামীতে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে। এখন বাংলাদেশের ১৫০টির বেশি কোম্পানি সিঙ্গাপুরে বাণিজ্য করছে।
তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল ৭-১৩ জুলাই বাংলাদেশ সফর করছে। তারা বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ, বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় বলেছেন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এখন শতভাগ বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে, যে কোনো সময় বিনিয়োগকৃত অর্থ লাভসহ ফিরিয়ে নিতে পারবেন। বিনিয়োগকারীদের এ অধিকার আইন পাস করে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আইটি, পাওয়ার ও হাউজিং সেক্টরে বিনিয়োগ করতে বেশি আগ্রহী বলে মন্ত্রী জানান।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের রফতানি এখন প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার। দিন দিন রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। শিল্প-কলকারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কোনো সমস্যা হবে না। সরকার সেভাবেই সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০০টি স্পেশাল ইকোনোমিক জোন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ইকোনোমিক জোনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সিঙ্গাপুরকে একটি স্পেশাল ইকোনোমিক জোন বরাদ্দ প্রদান করা হবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সফররত বিজনেস ডেলিগেশনের সদস্যরা বাংলাদেশ সফর করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিনিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। বাংলাদেশ সরকার সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
সিঙ্গাপুর ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সফররত বিজনেস ডেলিগেশনের ডেপুটি চিফ প্রসুন মুখার্জীর নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলে রয়েছে- বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট মোহা. শহিদুজ্জামান, ফেডারেশনের অ্যাসিসটেন্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কোডি লি. ডিরেক্টর আলান টান, অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার মার্ক ইয়ো, সিঙ্গাপুরস্থ বিএফএন ফুডস লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ বাবুল আক্তারসহ ডেলিগেশনের সদস্যরা।