হোম সম্পাদকীয় তবু অস্থির কেন ইলিশের বাজার?

তবু অস্থির কেন ইলিশের বাজার?


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

‘সরবরাহ বেশি হলেও ইলিশের দাম গতবারের চেয়ে বেশিই’ বলে গতকাল শেয়ার বিজের এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিবেদক। রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজার ঘুরে তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় খানিকটা কম হলেও গত বছরের তুলনায় ইলিশ একটু বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। অবশ্যই আমরা বলছি না, ইলিশের দাম যে পর্যায়ে রয়েছে, সেটি উদ্বেগজনক কিংবা মধ্যবিত্তেরও ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে। দুশ্চিন্তা অন্যখানে। সেটি হলো, ইলিশের চাহিদা কমবেশি হিসাবের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও কেন জানি মাঝেমধ্যেই আকস্মিকভাবে অশান্ত হয়ে ওঠে বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ এ মাছটির বাজার। রফতানি নিরুৎসাহিত বা বন্ধ থাকার সময়েও এটি ঘটতে দেখা যায়।

ছোট ইলিশের দাম বরাবরই কম এবং বড় ইলিশের দাম লক্ষণীয়ভাবে বেশি। সরবরাহ ও চাহিদার বিচারে একে অস্বাভাবিক বলা যায় না। বাজারের অন্যান্য মাছের সঙ্গেও ইলিশকে তুলনা করা কঠিন। উল্টো এ মন্তব্য অন্যায় হবে না যে, মাছের বাজারের মধ্যেও ইলিশের বাজারটি স্বতন্ত্র। চাষের মাছ তথা তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, কৈ প্রভৃতির বাজার অস্থির হয় কদাচিৎ। এক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেশজুড়ে মোটামুটি স্থিতিশীল। প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে প্রাপ্ত মাছের দামেও একটা সর্বজনীনতা রয়েছে। কিন্তু এসব কোনো কথাই খাটে না ইলিশের বেলায়। দেখা যায়, ইলিশের দাম উত্তরবঙ্গে হয়তো একরকম; আবার বরিশালের ইলিশের সঙ্গে চাঁদপুর কিংবা রাজধানীতে ইলিশের দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান। কেন ওই দামের ব্যবধান, সে বিষয়ে যুক্তিসংগত উত্তর মেলে কমই। হয়তো দেখা যাচ্ছে, একই ইলিশ রাজধানীতে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, বরিশালে বিক্রি হচ্ছে তার চেয়ে কমে; অথচ চাঁদপুরে বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। বরিশালে কেন কম দামে বিক্রি হয়, তার একটা কারণ রয়েছে বৈকি। যেহেতু মাছগুলো ওখানে ধরা পড়ার পর স্থানীয়ভাবে বিক্রি হচ্ছে, তাই বিক্রীত ইলিশের পরিবহন খরচ সামান্যই। আবার এ ইলিশ যখন সড়ক বা নদীপথে ঢাকায় চলে আসবে, তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সংরক্ষণ ব্যয়ও। সেক্ষেত্রে মুনাফা করতে চাইলে দাম খানিকটা বাড়তি হাঁকাতেই হবে ঢাকার আড়তদারদের। এসব ব্যাখ্যা সহজে অনুমেয়।

ইলিশের দাম বৃদ্ধিকে কিছুটা অস্বাভাবিক তখনই মনে হয়, যখন দেখা যায় বরিশাল-চট্টগ্রাম অপেক্ষা নিকটবর্র্ত হওয়ার পরও ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীতে। এর ব্যাখ্যা হিসেবে কোনো কোনো ব্যবসায়ী যুক্তি দেখিয়ে থাকেন, বরিশালের ইলিশ লবণাক্ত আর তাদেরটি ‘মিঠা পানির’ হওয়ায় অধিক সুস্বাদু; তদুপরি বরিশাল থেকে ইলিশ ঢাকায় যেতে যেতে তার আর কোনো মান থাকে না; তুলনায় রাজধানীতে প্রবেশের পরও চাঁদপুরের ইলিশ থাকে তাজা। সুতরাং এর দাম বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। এ যুক্তি আংশিক গ্রহণযোগ্য। স্থান ও রুচিভেদে একই পণ্যের দাম ওঠানামা করতে পারে।

এরপরও ইলিশের দাম নিয়ে যেটি ঘটছে, তার পেছনে একশ্রেণির ব্যবসায়ীর সামষ্টিক কারসাজি থাকতে পারে বলে কারও কারও শঙ্কা। এর একটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে, স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম বেশি থাকলে ইলিশ পাচার আপনাআপনিই কমে যায়। তবে ঘটনাটি স্থানীয় ভোক্তাস্বার্থবিরোধী। বিশ্বায়নের এ যুগে ইলিশ রফতানি নিয়ে অবশ্য আপত্তি তুলবেন না কেউ। তাছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশে যে মাত্রায় ইলিশ উৎপাদন হচ্ছে, তাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়েও এর রফতানি সম্ভব। ফলে ইলিশ রফতানি হলে হোক; কিন্তু দেখতে হবে, একশ্রেণির ব্যবসায়ীর অস্বাভাবিক মুনাফা লোটার প্রবণতার শিকার যেন না হয় স্থানীয় ইলিশ ক্রেতারা। মাছের বাজারে ইলিশের একক প্রভাবের কথাও জানা। এ ব্যাপারে তাই সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে সতর্ক করে দেওয়া প্রয়োজন বলেই আমরা মনে করি।