তরল গ্লুকোজ উৎপাদন করবে স্যালভো কেমিক্যাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি স্যালভো কেমিক্যালের পরিচালনা পর্ষদ তরল গ্লুকোজ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে জিঙ্ক সালফেট প্রকল্পটি পুনর্বিন্যস্ত করে সেখানে তরল গ্লুকোজ উৎপাদন করা হবে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্যালভে কেমিক্যাল কোম্পানিটি ইতিপূর্বে জিঙ্ক সালফেট উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছিল; কিন্তু তা সফল হয়নি। কারণ এর অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি পরীক্ষামূলক উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় এ পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। বিদ্যমান জিঙ্ক সালফেট প্লান্টে যেসব যন্ত্রপাতি রয়েছে, সেগুলো স্থানান্তর ও পরিবর্তন করে সেখানে তরল গ্লুকোজ প্রকল্প প্রতিস্থাপন করা হবে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এবং এর উৎপাদন ক্ষমতা হবে দৈনিক ২৮ মেট্রিক টন। এই তরল গ্লুকোজ ফুড ইন্ডাস্ট্রি ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহƒত হবে।
স্যালভো কেমিক্যাল ২০১১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটি ২০১৭ সালে ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ওই বছর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৭৯ পয়সা, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ১১ টাকা ৯১ পয়সা এবং ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা হয় চার কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসেও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় ইপিএস ছিল এক টাকা এবং এনএভি ১১ টাকা ৬৭ পয়সা। ওই সময় -কর-পরবর্তী আয় করেছে পাঁচ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয় ১০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১৮ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে আট পয়সা। দুই প্রান্তিকে অর্থাৎ ছয় মাসে ইপিএস ছিল ৩৩ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল ৩৯ পয়সা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইনএভি হয়েছে ১১ টাকা ৬৭ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ১১ টাকা ৯১ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী আয় করেছে ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস ছিল ২৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২৩ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে এক পয়সা। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি হয়েছে ১২ টাকা ১৪ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ১১ টাকা ৯১ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে এক কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ২৪ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়। লেনদেন শেষে সর্বশেষ দর দাঁড়ায় ২৪ টাকা ৫০ পয়সা। এদিন ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩১টি শেয়ার ৬১১ বার হাতবদল হয়। যার মোট মূল্য দুই কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে কোম্পানির প্রাইজ আর্নিং (পিই) রেশিও ৩৭ দশমিক ১২। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে পিই রেশিও ৩১ দশমিক শূন্য এক।
১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত ও ৬১ কোটি ৯২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির রিজার্ভে আছে আট কোটি ৩১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা ছয় কোটি ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৭১টি। মোট শেয়ারের ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ও ৬৫ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।