বিশ্ব সংবাদ

তাইওয়ানের কাছে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বেচবে যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনের আপত্তি সত্ত্বেও তাইওয়ানের কাছে ২২০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত সোমবার পেন্টাগন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর: বিবিসি।
চুক্তিতে ১০৮টি জেনারেল ডাইনামিকস কর্প অ্যাব্রামস ট্যাংক এবং ২৫০টি স্টিংগার ক্ষেপণাস্ত্র ও এ সংক্রান্ত জরুরি সরঞ্জামাদি কথা রয়েছে। গত মার্চে তাইওয়ানের সামরিক শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র কেনার প্রস্তাব করেন। ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই এ চুক্তি করা হয়েছে বলে জানায় পেন্টাগন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত মাসে অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনার বিষয়টি জানার পর থেকেই বেইজিং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এসব বিধ্বংসী অস্ত্র বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে অনুরোধ করে।
তবে এর জবাবে পেন্টাগনের ডিফেন্স সিকিউরিটি কো-অপারেশন এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ানের এসব অস্ত্র ওই অঞ্চলে মৌলিক সামরিক ভারসাম্যে তেমন কোনো পরিবর্তন আনবে না।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট গত মার্চ মাসে বলেছিলেন, চীনের চাপের মুখে প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন অস্ত্র বিক্রির জন্য তাইপের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে আসছে চীন। তারা দাবি করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে অস্ত্র দিয়ে এ অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর চীন তাইওয়ানকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে।
গত এপ্রিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাইওয়ান প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। চীন এ ধরনের তৎপরতা বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বার বার আহ্বান জানানোর পরও মার্কিন বাহিনী তা অগ্রাহ্য করেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেসব কারণে দ্বিপক্ষীয় টানাপড়েন দেখা দিয়েছে তাইওয়ান প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানো তার অন্যতম।
তাইয়ান প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে চীন সবসময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছে। দেশটি তাইওয়ানকে নিজের অংশ মনে করে এবং সেক্ষেত্রে তাইয়ান প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রবেশকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে বেইজিং।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায় চীন। সে জন্য গত কয়েক বছর ধরে সামরিক শক্তির সংস্কার করছে দেশটি।

 

সর্বশেষ..