তামাকপণ্য ব্যবসা বিক্রির খবরে কিছু প্রশ্ন

তামাকজাত পণ্যের ব্যবসা বিক্রি করছে আকিজ গ্রুপ। জাপানের সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানি জাপান টোব্যাকো ইনকরপোরেশন বাংলাদেশি এ কোম্পানির সিগারেট উৎপাদন ব্যবসা কিনে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে গতকালের শেয়ার বিজে এ তথ্য প্রকাশ পায়। তামাকপণ্য ব্যবসার মধ্য দিয়েই দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে আকিজ গ্রুপের উত্থান ঘটে। তাই গ্রুপটির ওই ব্যবসা বিক্রিসংক্রান্ত খবর স্বভাবতই মনোযোগ কাড়বে।
ঠিক কী কারণে আকিজ গ্রুপ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বলা সহজ নয়। তাদের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি এ অব্দি। তবে কারণ যা-ই হোক, এ খাতের অন্যান্য ব্যবসায়ীর জন্য খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। কেন তামাকপণ্যের ব্যবসায় অভিজ্ঞ একটি কোম্পানি এ খাত থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের বিষয় বটে। এটা হয়তো এ খাতের ব্যবসায়ীদের কৌশলগত পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়ক হবে। এর আগে জাপান টোব্যাকো প্রায় ১৪২ কোটি ডলারে রাশিয়ার ডোনস্কোয় তামাক কোম্পানির ব্যবসা কিনে নেয়। আকিজ গ্রুপের সিগারেট ব্যবসা তারা কিনছে প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারে। দৃশ্যত রাশিয়ার কোম্পানির চেয়ে আকিজের সিগারেট ব্যবসা আকারে বড়। এ বাজার বিকাশমান বলেও মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিগারেট উৎপাদন কোম্পানি আকিজ। ব্যবসাটির প্রায় ২০ শতাংশ দখলে রয়েছে তাদের। দেশের এ বাজার মূলত দখল করে রেখেছে বিদেশি বহুজাতিক আরেক কোম্পানি। বলতে গেলে, একচেটিয়া ব্যবসা করছে তারা। আয়তনে ছোট হলেও তামাকপণ্য ব্যবসায়ীদের জন্য জনবহুল বাংলাদেশ একটি বড় লক্ষ্যবস্তু। বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম সিগারেটের বাজার এটি। সেদিক থেকে জাপান টোব্যাকোর মতো কোম্পানি এদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
জানা গেছে, নিজ দেশের বাজারে সিগারেট ব্যবসা ক্রমে সংকুচিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে নজর দিয়েছে জাপানি এ কোম্পানি। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানি এটি। অনুমান করা যায়, বাংলাদেশে ব্যবসা প্রসারে নিজস্ব কলাকৌশল প্রয়োগ করবে তারা। তাতে নতুনত্ব থাকবে হয়তো। এতে এ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়বে। একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগও কমবে হয়তো। এটি এক দিক থেকে ইতিবাচক হলেও কিছু সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। যে কোনো খাতেই দেশি ও বিদেশি কোম্পানির মার্কেট শেয়ারে ভারসাম্য থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সিগারেট উৎপাদনে দেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ খুব কম। আকিজের এ সিদ্ধান্তে এটি আরও কমল। এ খাতে দেশি কোম্পানির চ্যালেঞ্জগুলো আমলে নিয়ে ব্যবসায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় আছে কি না, তাও এখন খতিয়ে দেখা দরকার।
তামাকপণ্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর, সন্দেহ নেই। তাই সিগারেটের পাশাপাশি অন্যান্য তামাকপণ্য ব্যবহারেও মানুষকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে সিগারেট কোম্পানিগুলোকে কোনো যুক্তিতেই বাড়তি সুযোগ দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। জনকল্যাণ বিবেচনায় তামাকপণ্যের ব্যবসাকে বিশেষ নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের দায়িত্ব। এ উদ্দেশ্যে বাড়তি করারোপ ও প্রচার-প্রসারে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন নির্দেশনা ইতোমধ্যে জারি রয়েছে। বাজারে থাকা কোম্পানিগুলো এসব কতটুকু মেনে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নতুন কোম্পানি এখানে ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রেও এসব বাধ্যবাধকতা মেনে পথ চলবে, এমনটাই আশা। কর্তৃপক্ষের উচিত হবে এ ক্ষেত্রে তার অবস্থান স্পষ্ট রাখা।