প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

তালিকাচ্যুত হচ্ছে চার দুর্বল কোম্পানি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারের শর্ত সঠিকভাবে পরিপালন না করায় তালিকাভুক্ত চার কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, ইমাম বাটন ও সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ। মূল মার্কেট থেকে তালিকাচ্যুত করে কোম্পানিগুলোকে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে স্থানান্তর করা হবে। ডিএসই পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। ডিএসই সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তালিকাভুক্ত আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান যদি তাদের সব কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করতে না পারে, তাহলে তাদেরও একই পরিস্থিতি হবে। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, মেঘনা পিইটি, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, ইমাম বাটন ও সাভার রিফ্র্যাক্টরিজকে মূল মার্কেট থেকে তালিকাচ্যুত করে ওটিসি মার্কেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু বিএসইসির পক্ষ থেকে সবুজসংকেত পেলেই বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, তালিকাচ্যুতির তালিকায় আরও কিছু কোম্পানি রয়েছে। নিয়ম না মানতে পারলে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে তালিকাচ্যুত হবে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৫টি রুগ্ণ কোম্পানি বছরের পর বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করছে। এসব কোম্পানির আর্থিক ভিত্তিও খুব দুর্বল। শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান না করা, উৎপাদনে না থাকাসহ বিভন্ন কারণে গত বছরের ৭ আগস্ট ১৫ কোম্পানিকে তাদের আর্থিক অবস্থাসহ অন্যান্য বিষয় জানতে চিঠি দেওয়া হয়। কোম্পানিগুলো হলো: সমতা লেদার, জুট স্পিনার্স, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, মেঘনা পিইটি, তুংহাই নিটিং, সিএনএ টেক্স, দুলামিয়া কটন, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিলবাংলা সুগার মিলস, ইমাম বাটন, মেঘনা কনডেন্সড, শাইনপুকুর সিরামিক্স এবং কেঅ্যান্ডকিউ। তবে এরই মধ্যে লভ্যাংশ দেওয়ায় কেঅ্যান্ডকিউকে এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, যেসব প্রতিষ্ঠানকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে, এতে মত দিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, তাদের পক্ষে উৎপাদনে আসা কিংবা লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব নয়। তারা বিষয়টি ডিএসইর ওপর ছেড়ে দেয়। যে কারণে এসব কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই।
জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন শেয়ার বিজকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা ভেবেই আমরা আগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাচ্যুত করেছি। নতুন করে আরও চার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, এসব কোম্পানির আর্থিক কোনো ভিত্তি নেই। সব দিক বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ এবং পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত করার বিষয়ে লিস্টিং রেগুলেশন্সের ৫১(১)(এ) ধারার ক্ষমতাবলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়েছিল স্টক এক্সচেঞ্জ। এছাড়া এ বিধানেই অন্তত তিন বছর ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখা কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার ক্ষমতা রয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জের।
ডিএসই কর্তৃপক্ষের মতে, অনেক ভালো কোম্পানির মাঝে পুঁজিবাজারে কিছু খারাপ কোম্পানিও আছে। এগুলো বাজারের সুনাম নষ্ট করছে। এ ব্যাপারে শুদ্ধি অভিযান চালাতে চান তারা। সে জন্য কোম্পানিগুলোর বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে ডিএসই। সূত্র জানায়, দুর্বল কোম্পানির তালিকা আরও বড় হচ্ছে। এরই মধ্যে ৩০ কোম্পানির ওপর চলছে নজরদারি। পর্যায়ক্রমে সব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
এদিকে বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান কোনো নিয়ম পালন করছে না কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন দিচ্ছে না, সেসব কোম্পানির মূল মার্কেটে থাকার প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, ডিএসইর এমন সিদ্ধান্ত সঠিক। কারণ, এসব কোম্পানি থেকে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো রিটার্ন পান না। উল্টো কারসাজিকারীদের নজর থাকে এসব কোম্পানিতেই।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, ডিএসই কর্তৃপক্ষের হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। কারণ এখানে তাদের লাখ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। ওটিসিতে কোম্পানিগুলোর অবস্থান হলে তারা আরও বিপদে পড়ে যাবে। কারণ এই মার্কেটের লেনদেন পদ্ধতি খুবই জটিল। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে শেয়ারের ক্রেতা পাওয়া মুশকিল। এর চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়ন হওয়া ভালো। কারণ অবসায়ন হলে বিনিয়োগকারীরা পরিমাণে কম হলেও অর্থ ফেরত পাবেন, কিন্তু ওটিসিতে গেলে তাদের সেই সম্ভাবনাও থাকে না। তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছরের বেশি লভ্যাংশ না দিলে, কিংবা উৎপাদন বন্ধ থাকলে সেইসব কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করার কথা। কিন্তু ঝুঁকিতে থাকা কোম্পানির মধ্যে অনেকগুলো ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এমন কোনো নিয়ম পালন করছে না। তাদের উচিত ছিল অনেক আগেই এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সেটা না করে তারা একটা পক্ষকে সুযোগ করে দিয়েছে, আর বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

সর্বশেষ..



/* ]]> */