সারা বাংলা

তিন কক্ষে চলছে ছয় শ্রেণির পাঠদান

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ সদরের মহাকালী ইউনিয়নের দক্ষিণ কেওয়ার সাতানিখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষে ছয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। পৃথক দুটি ভবনে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে আসছিল। তবে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ একটি ভবন ২০১৪ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে অবশিষ্ট ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। আর এ ভবনে মাত্র দুটি কক্ষ রয়েছে। এতে ছয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষকদের বসার জন্য কক্ষের অভাব দেখা দেয়। এ জন্য দুটি কক্ষের মধ্যে টিনের বেড়া দিয়ে চারটি কক্ষ তৈরি করা হয়। জোড়াতালি দেওয়া চারটি কক্ষের মধ্যে একটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে শিক্ষকদের বসার জন্য ও অফিস হিসেবে। বাকি তিনটি কক্ষে দুই শিফটে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা আক্তার জানান, বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ২৩১ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত তিন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। আর তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত।
তিনি আরও জানান, শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয় ভবনের দুটি কক্ষের ভেতর টিনের বেড়া দিয়ে চারটি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। তাতে তিনটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। আরেকটি কক্ষ অফিস কাম শিক্ষকদের বসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এভাবেই কোনো রকমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে আসছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, দুটি কক্ষকে টিনশেড দিয়ে ভাগাভাগি করে চারটি কক্ষ বানানো হয়েছে। এতে গাদাগাদি করে শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে। ছোট ছোট কক্ষ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কথাবার্তায় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষেই কোলাহল লেগেই থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী শিগগিরই বিদ্যালয়টির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, সদরের মহাকালী ইউনিয়নের দক্ষিণ কেওয়ার সাতানিখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হবার ঘটনা তার জানা ছিল না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কার করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

 

 

সর্বশেষ..