তিন কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ট্রাস্ট ব্যাংক: আগামী ১৭ অক্টোবর বেলা পৌনে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।
গতকাল শেয়ারদর দুই দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৪ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে এক লাখ আট হাজার ৩৫২টি শেয়ার মোট ১১৪ বার হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ২৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪৭ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৭ সমাপ্ত আর্থিক বছরে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় তিন টাকা ১৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়ায় ২২ টাকা ৪০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১৭৫ কোটি আট লাখ ৬০ হাজার টাকা।
৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাসসহ মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ। এ সময় ইপিএস হয়েছে তিন টাকা ৯৮ পয়সা এবং এনএভি ২২ টাকা ৭৫ পয়সা। ওই সময় করপরবর্তী মুনাফা করেছে ২০১ কোটি ৫৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৫৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬৯০ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৫৫ কোটি ৬৯ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৬০ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, বিদেশি এক দশমিক ৭১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২২ দশমিক ৫৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
রহিম টেক্সটাইল মিলস: আগামী ২০ অক্টোবর বেলা আড়াইটায় পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
গতকাল শেয়ারদর দুই দশমিক ৩৬ শতাংশ বা ১২ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৫২৪ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫১৯ টাকা ২০ পয়সা। দিনজুড়ে ৫৯ হাজার ১০টি শেয়ার মোট ৭৮৯ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৯৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। গত এক বছরে ২১২ টাকা থেকে ৫৪৮ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করে।
২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত ইপিএস হয়েছে ছয় টাকা ৬১ পয়সা ও এনএভি ৪১ টাকা আট পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ছয় টাকা ৯২ পয়সা ও ৪৮ টাকা ২৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে চার কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল চার কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বস্ত্র খাতের ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ১৯৮৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন সাত কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২০ কোটি ১১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ৭৮ লাখ ১৭ হাজার ৯২০টি শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৭২ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক চার দশমিক ৭৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি: আগামী ১৮ অক্টোবর বিকাল ৬টায় পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
গতকাল কোম্পানিটির ৩১ লাখ ৭৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৭৩ হাজার ৪১৭টি শেয়ার ৪৪ বার হাতবদল হয়। ওইদিন শেয়ারদর দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ৩০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৪২ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৪৩ টাকা ১০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৪২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪৩ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৪৯ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠানামা করে।
‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০১৭ সমাপ্ত হিসাববছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছরের সমান। আলোচ্য সময়ে ইপিএস হয়েছে ৪৪ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩৭ টাকা ৭৪ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ১২ পয়সা ও ৩৭ টাকা চার পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ১৭ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ১০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৪টি শেয়ারের মধ্যে সরকারের কাছে ৬৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, বিদেশি দশমিক ৫১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।