তিন দিনে লেনদেনে যে উত্থান একদিনেই তা পতন

রুবাইয়াত রিক্তা: আগের দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়ালেও গতকাল এক লাফেই তা ৮০০ কোটির ঘরে নেমে এসেছে। এক দিনে লেনদেন কমেছে ২৬২ কোটি টাকা। গত তিন দিনে লেনদেন বেড়ে যে অবস্থানে গিয়েছিল, গতকাল এক দিনেই সে পরিমাণ পতন হয়। লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে একবার কেনার চাপে সূচকের উত্থান হয়েছে তো পরের ঘণ্টায় ফের পতন নেমে আসে। শেষ পর্যন্ত ডিএসইএক্স ও ডিএস৩০ সূচকের পতন দিয়ে শেষ হয় লেনদেন। আগের দিন ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাত ইতিবাচক হলেও গতকাল ঠিক তার বিপরীত অবস্থানে ছিল। এদিন প্রায় সব খাতেই শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বেশি ছিল।
গতকাল ডিএসইর লেনদেনের এক-চতুর্থাংশই হয় প্রকৌশল খাতে। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশ বা ২০৯ কোটি টাকা। এ খাতে মাত্র ৩৩ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। কেডিএস এক্সেসরিজ, সিঙ্গারবিডি, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও বিবিএস কেব্লস দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। এসব শেয়ারের দর ছয় থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গার বিডির সাড়ে ৪৩ কোটি ও কেডিএস এক্সেসরিজের ২৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। কোম্পানি দুটির শেয়ারের একপর্যায়ে বিক্রেতা না থাকায় হল্টেড হয়। এর মধ্যে সিঙ্গার বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ও কেডিএস এক্সেসরিজের বার্ষিক ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এসেছে। বিবিএস কেব্লসের ২৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৯ শতাংশ। এ খাতে ২৮ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের এপেক্স স্পিনিং, এইচআর টেক্সটাইল দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। এছাড়া কুইন সাউথের প্রায় ২১ কোটি ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের ১৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ারের ৩৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির দর আট শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিবিধ খাতে লেনদেন হয় আট শতাংশ। এ খাতের সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের দর সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাত এবং সেবা ও আবাসন খাত পুরোপুরি নেতিবাচক অবস্থানে ছিল। টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোনের সাত টাকা ৯০ পয়সা দরবৃদ্ধি সূচককে বড় পতনের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। পেনিনসুলা চিটাগংয়ের দর ছয় শতাংশ বেড়ে চতুর্থ দিনের মতো দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে।