প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

তিন দিন পর সচল হলো চট্টগ্রাম বন্দর

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: মে দিবস ও ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এতে সৃষ্টি হয়েছে জাহাজ ও কনটেইনারজট। তবে ফণীর প্রভাব কেটে যাওয়ায় গতকাল প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সচল হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড এবং টার্মিনালে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। যদিও বন্দর বন্ধ থাকায় অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাড়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।
বন্দর ব্যবহারকারী ও চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক গড়ে ১০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করে। কিন্তু বুধবার মে দিবসে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে কার্যক্রম শুরুর আগেই ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে সব জাহাজ গভীর সাগরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। টানা তিন দিন বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে ইয়ার্ড এবং টার্মিনালে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়। যদিও আগের সপ্তাহে পবিত্র শবেবরাতেও একদিন বন্ধ ছিল। ফলে ১৭টি কনটেইনার জাহাজসহ বেশ কিছু জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করছে।
গতকাল শুক্রবার বহির্নোঙরে ১৭০টির মতো জাহাজ ছিল। এর মধ্যে বেশ কিছু স্ক্র্যাপ জাহাজ রয়েছে। তবে সাধারণ পণ্যবাহী ২০টি, সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী ২২টি, চিনিসহ ভোগ্যপণ্যের ১৪টি এবং ভোজ্যতেল নিয়ে ছয়টিসহ বিভিন্ন ধরনের ৮৮টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজের পাশাপাশি বন্দরে প্রতিদিনই নতুন নতুন জাহাজ নোঙর করবে। তাই আটকেপড়া জাহাজগুলো হ্যান্ডলিং করে বন্দর পরিস্থিতি পুরোদমে স্বাভাবিক হতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগবে এমনটাই দাবি ব্যবসায়ীদের।
বন্দর কর্মকর্তারা বলেন, গতকাল বেলা সোয়া ৩টা থেকে এনসিটি, সিসিটিতে মুভমেন্ট শুরু করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টগুলো। তবে জাহাজশূন্য জেটিতে রাতে জোয়ারের সময় জাহাজ ভেড়ানো হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, যেহেতু ঘূর্ণিঝড় ফণীর ব্যাপকতা এখন অনেকাংশে কম, তাই জরুরি ভিত্তিতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য ডেলিভারি চালু করা দরকার। আর ডেলিভারি চালু রাখার জন্য কাস্টম অফিসার নিয়োজিত রাখতে কাস্টম কমিশনারকে বন্দর থেকে অনুরোধপত্র প্রেরণ করা দরকার। এক্ষেত্রে কনটেইনার জাহাজ বন্দরে বার্থিং নেওয়া মাত্র হুক পয়েন্ট থেকে ডাইরেক্ট ডেলিভারি প্রদানের ব্যবস্থা করা, অফ ডক থেকে কন্টেইনার, ট্রলি বন্দরে ঢোকার এক ঘণ্টার মধ্যে তা বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া বন্দরের জট না হওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ৭/২৪ বন্দর পরিচালনার নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্র ও শনিবার কাস্টমস কার্যক্রম চালু রাখাসহ সব শিপিং কোম্পানি, ফরওয়ার্ডার এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, সোনালী ব্যাংক কাস্টম শাখাসহ বন্দর কার্যক্রম-সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রামের ব্যাংকগুলোর একটি বুথ খোলা রাখার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জাহাজ ও কনটেইনার খালাসের জন্য বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইকুইপমেন্ট মুভমেন্ট শুরু হয়েছে ইয়ার্ড ও টার্মিনালে। আমদানি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া সন্ধ্যায় জেটিতে জাহাজ ভেড়ানো হতে পারে। জাহাজ ভিড়লেই লোড-আনলোড শুরু হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জট তো কিছুটা হবেই। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্দর কার্যক্রমে এ জট খুব দ্রুত সময়ে কমে আসবে।

সর্বশেষ..