তিন বছরেও ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হয়নি

ইসমাইল আলী: চাহিদা মেটাতে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনায় দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি। এরপর তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। তবে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি এখনও। ফলে সম্প্রতি বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়েছে। যদিও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

সম্প্রতি পিডিবির বোর্ড সভায় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে দেখা যায়, ১৫ বছরের জন্য ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পিডিবি। এর মধ্যে দুই বছর পাঁচ মাসের জন্য স্বল্পমেয়াদি ও ১২ বছর সাত মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ কেনার পৃথক প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে এ ক্রয় প্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। তবে বিদ্যুৎ কেনার মেয়াদের অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে পিটিসি ইন্ডিয়া থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। এর মেয়াদ ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনা অব্যাহত রাখার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এটি মূল্যায়নে সহায়তা করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শক।

এ লক্ষ্যে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনায় ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) আহ্বান করে পিডিবি। এতে সাতটি প্রতিষ্ঠান স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ বিক্রির প্রস্তাব করে। এগুলো হলোÑআদানি পাওয়ার লিমিটেড, ডিবি পাওয়ার লিমিটেড, এনসিসি পাওয়ার প্রজেক্টস লিমিটেড, এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগাম লিমিটেড, পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড, জিন্দাল পাওয়ার লিমিটেড ও এসার পাওয়ার এমপি লিমিটেড। ২০১৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এ বিদ্যুৎ কেনা হবে।

এদের মধ্যে আদানি পাওয়ার লিমিটেড, এনসিসি পাওয়ার প্রজেক্টস লিমিটেড ও পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড আবার দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিক্রির পৃথক প্রস্তাবও দিয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের জুলাই পর্যন্ত মেয়াদের জন্য এ বিদ্যুৎ কেনা হবে।

আরএফপি অনুযায়ী বিডারদের দাখিলকৃত দরপত্রের নন-ফিন্যান্সিয়াল বিড প্রথমে মূল্যায়ন করা হবে। এতে স্বল্পমেয়াদে পাঁচ ও দীর্ঘমেয়াদে দুটি কোম্পানি যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। স্বল্পমেয়াদে যোগ্য বিবেচিত কোম্পানিগুলো হলোÑআদানি পাওয়ার লিমিটেড, ডিবি পাওয়ার লিমিটেড, এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগাম লিমিটেড, পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড ও জিন্দাল পাওয়ার লিমিটেড। আর দীর্ঘমেয়াদে যোগ্য বিবেচিত দুই কোম্পানি হলো আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড।

এদিকে ভারতে অভ্যন্তরীণ কয়লা ব্যবহারে দেশটির সরকার নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনে। এতে দেশটির নিজস্ব কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রফতানি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যোগ্য বিবেচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরীণ কয়লা ব্যবহারে দেশটির সরকারের সম্মতি গ্রহণের নির্দেশনা প্রেরণ করে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিপি পাওয়ার ও জিন্দাল পাওয়ারের কাছে সম্মতিপত্র দাখিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে দুই দফা চিঠি দিলেও তারা সম্মতি দাখিল করতে পারেনি বিধায় বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান দুটি অযোগ্য বিবেচিত হয়। বাকি কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রস্তাব খোলায় পিডিবির পক্ষ থেকে অনুমতি চাওয়া হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে ভারতের পক্ষ থেকে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যবিষয়ক কাঠামোগত নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। এজন্য আর্থিক প্রস্তাব খোলার অনুমতি দেয়নি বিদ্যুৎ বিভাগ। এরই মধ্যে পিটিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

ভারতের বিদ্যুৎ রফতানি নীতিমালা বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য নীতিমালা অনুমোদন করে ভারত। গত বছর সেপ্টেম্বর যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের ১৩তম সভায় ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির প্রস্তাব অনুমোদন করে ভারত। তবে এরই মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাবের মেয়াদকাল অনেকটা পেরিয়ে যায়। আবার ভারতও বর্তমানে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ কেনা সম্ভব বলে মত দেয় এডিবির পরামর্শক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে ১৫ বছরের জন্য ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব বাতিল করে পিডিবি। জানতে চাইলে পিডিবির বোর্ড সভায় প্রস্তাব উত্থাপনকারী পরিচালক (আইপিপি সেল-১) মো. ফজলুল হক শেয়ার বিজকে বলেন, স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুৎ কেনার সময়কাল ছিল ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর। এরই মধ্যে অনেকটা অতিক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ভারত এখন বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হয়েছে। এতে আগের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতা না থাকায় এবার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পাদন করা হবে।