তিন বছরে আয়-মুনাফায় এগিয়েছে শাশা ডেনিমস

পলাশ শরিফ: তালিকাভুক্তির পর এগিয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানি শাশা ডেনিমস। গত তিন বছরে কোম্পানিটির আয় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২৩৭ শতাংশ। উন্নতমানের আমদানি করা কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানের কারণে কোম্পানিটির প্রতি ক্রেতা-বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। সেইসঙ্গে জাতীয় রফতানি আয়ে অবদানের জন্য ২০১৩ সাল পর কয়েক দফায় রফতানি ট্রফিসহ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছে শাশা ডেনিমস।
তথ্যমতে, ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় বস্ত্র খাতের বেসরকারি কোম্পানি শাশা ডেনিমস। তালিকাভুক্তির আগে ২০১৪ সালে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা, যা ২০১৭ সাল শেষে প্রায় ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে শাশা ডেনিমসের আয় প্রায় ২০৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে ২০১৪ সালে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা ২০১৭ সালের জুন শেষে ৫৯ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ সময় কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২৩৭ শতাংশ।
এদিকে আয়-মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির কারণে শাশা ডেনিমস বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্য হারে লভ্যাংশ দিচ্ছে। সর্বশেষ সমাপ্ত আর্থিক বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ নগদসহ মোট ২২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগে ২০১৬-১৭ সালে ২৫ শতাংশ ক্যাশ ও ছয় শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। বিদেশি কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে গিয়ে এবার নগদ লভ্যাংশের হার কমিয়েছে শাশা ডেনিমস।
আয়-মুনাফা এগিয়ে যাওয়ার কারণে শাশা ডেনিমসের পরিচালক (অর্থ) আহসানুল হক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘দেশি-বিদেশি ক্রেতা, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে শাশা ডেনিমস এখন আস্থার নাম। এ আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা আমদানি করা উন্নতমানের সুতা, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ শ্রমশক্তি ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। তাই সবার সম্মিলিত মেধা-শ্রমে এগিয়ে যাচ্ছে শাশা ডেনিমস। কোম্পানিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও গুরুত্বসহ দেখছি।’
এদিকে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থে শাশা ডেনিমসের কারখানার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ডেনিম পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে ঢাকা ইপিজেডের ইতালিভিত্তিক টেক্সটাইল কোম্পানি বার্তোই জি ইন্ডাসট্রিয়া টেসিলিএসআরএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৪০ শতাংশ শেয়ার কেনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ওই শেয়ার কিনতে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৩০ কোটি টাকা কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে। নিজস্ব তহবিল থেকে বাকি টাকার জোগান দিচ্ছে শাশা ডেনিমস।
আয়-মুনাফায় এগিয়ে যাওয়ার খবরে শাশা ডেনিমসের শেয়ারপ্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। গত দু’বছরে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২০ টাকা চার পয়সা বা ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৭২ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শাশা ডেনিমসের প্রতি শেয়ার সর্বনি¤œ ৪৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।
জানা গেছে, শতভাগ রফতানিমুখী ডেনিম কাপড় উৎপদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৯৬ সালে পথচলা শুরু করে শাশা ডেনিমস। প্রতিষ্ঠার প্রায় চার বছর পর ২০০০ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এর পর থেকেই ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে শাশা ডেনিমস সুনাম অর্জন করে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও অত্যাধুনিক মানের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে উৎপাদনক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রায় দেড় দশকেই একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে কোম্পানিটি। ডিইপিজেডে শাশা ডেনিমসের নিজস্ব কারখানায় উৎপাদিত ডেনিম কাপড় এদেশের গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে প্রক্রিয়াজাত হয়ে তৈরি পোশাক হিসাবে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শাশা ডেনিমসের প্রায় ১২ কোটি শেয়ারের মধ্যে ৪৬ দশমিক ৫২ শতাংশই কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে তিন দশমিক ৫৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।