তিন বছরে সর্বোচ্চে জ্বালানি তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ৭০ ডলার অতিক্রম করেছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের পর এ দামই সর্বোচ্চ। জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়ার উত্তোলন কমানোর অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং পণ্যটির মজুত কমে যাওয়ায় দাম বাড়ল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আট সপ্তাহের মধ্যে কম উত্তোলনের প্রত্যাশায়ও পণ্যটির দাম বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে লন্ডনের ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৭০ ডলারে। তিন বছরের মধ্যে এ দামই সর্বোচ্চ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিটে (ডব্লিউটিআই) ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম পৌঁছায় ৬৪ ডলার ৭৭ সেন্টে। এটিই ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

এছাড়া জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত উত্তোলন কমাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এ কারণে এমনিতেই বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে উত্তোলন হ্রাসের প্রত্যাশা।

২০১৪ সালের শেষ সময় থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন শুরু হয়। ক্রমাগত দরপতন ঠেকাতে ওপেকভুক্ত দেশগুলো পণ্যটির সম্মিলিত উত্তোলন কমিয়ে আনতে চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলো চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন ১৮ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুত পাঁচ বছরের গড়ের সমপর্যায়ে আসবে বলেও আশা করা হয়। রাশিয়াসহ ওপেকবহির্ভূত ১০টি দেশ এ চুক্তি মেনে পণ্যটির উত্তোলন কমাতে রাজি হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে এর মেয়াদ আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় গত ৩০ নভেম্বর ওপেক সভায় আবারও ৯ মাসের জন্য অর্থাৎ ২০১৮ সালের শেষ সময় পর্যন্ত উত্তোলন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরবরাহ চাপ থাকলেও জ্বালানি তেলের বাজার এখনও স্থিতিশীল আছে। মূলত ওপেক ও মিত্র দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস সরবরাহ চাপকে প্রশমিত করেছে।

২০১৭ সালে দৈনিক তেলের চাহিদা ১০ থেকে ১২ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বছর শেষে দেখা গেছে, পণ্যটির দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। ওপেক ও মিত্র দেশগুলো চলতি বছর আরও কার্যকরভাবে উৎপাদন হ্রাস চুক্তি বাস্তবায়ন করবে। ওপেক বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মজুত পাঁচ বছরের গড়ের নিচে নামিয়ে আনতে চায়।

ওপেকের প্রেসিডেন্ট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানিমন্ত্রী সোহেল আল মাজরৌয়ি গতকাল দুবাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৭ সালের জ্বালানি তেলের চাহিদায় অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে এবং মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে ওপেক উৎপাদন হ্রাস চুক্তি প্রতিপালন করেছে। তবে বাজারে এখনও উন্নতির সুযোগ আছে। আল মাজরৌয়ি ২০১৮ সালের জন্য ওপেকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গত নভেম্বরে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সব দেশের উপস্থিতিতে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সবাই এ চুক্তি দ্বারা উপকৃত হচ্ছে। ২০১৮ সালে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।