তিন মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় সম্পাদক পরিষদের হতাশা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগের কথা মন্ত্রিসভায় উত্থাপন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি সংশোধিত খসড়া প্রণয়নের ব্যাপারে তিন মন্ত্রীর দেওয়া সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় সম্পাদক পরিষদ গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে।
গতকাল রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে এই আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এমন হতাশা প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ সম্পাদক স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ বিষয়টিকে তিন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে সংগঠনের আস্থা ও বিশ্বাসের লঙ্ঘন বলে মনে করে। সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর উদ্যোগে, যিনি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে নতুন এক দফা আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি দেন এবং সম্পাদক পরিষদকে তাতে আমন্ত্রণ জানান। একই প্রতিশ্রুতি ওই সভায় আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও দেওয়া হয়েছিল।
সম্পাদক পরিষদ মনে করে, প্রতিশ্রুত আলোচনা শুরুর একটি সুযোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির মাধ্যমে হারিয়ে গেছে। সাংবিধানিক এখতিয়ার বলে রাষ্ট্রপতি বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠালে ওই আলোচনা হতে পারত।
বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ অচিরেই শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। সম্পাদক পরিষদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে বাক্স্বাধীনতার প্রতি গুরুতর হুমকি বলে বিবেচনা করে সাংবাদিক ও নাগরিক সম্প্রদায় যে উদ্বেগ জানিয়েছে, তা নিরসনের এটাই শেষ সুযোগ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করতে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয় পরিষদ। এই আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদ তাদের অবস্থান ও উদ্বেগ গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য আগামী শনিবার ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে দুপুর ১২টায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে সম্পাদক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা সম্পাদক পরিষদ সমর্থন করে, সভায় তা তুলে ধরা হয়। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩-এর মতো বিতর্কিত ধারাগুলোকে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের পরিপন্থি, বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে বিরোধাত্মক বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ।