সারা বাংলা

তিস্তা রেলসেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন

জে আই সমাপ্ত, লালমনিরহাট: ব্রিটিশ আমলে নির্মিত মেয়াদোত্তীর্ণ তিস্তা রেলসেতুর ওপর দিয়ে এখনও ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও নতুন করে সেতু নির্মাণ করেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেতুটি সংস্কার করে চালানো হচ্ছে ট্রেন। ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের সঙ্গে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ১৮৯৯ সালের শেষদিকে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত হয় দুই হাজার ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যরে তিস্তা রেলসেতু। সেতুটির একাংশ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়, অন্য অংশ লালমনিরহাট সদর উপজেলায়। নির্মিত সেতুটির মেয়াদ ওই সময় ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। বর্তমানে সেতুটির বয়স ১২০ বছর।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় সেতুটিতে মরিচা পড়ে ভেঙে বা ফুটো হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থান। আর নষ্ট হয়ে গেছে কাঠের অনেক পাটাতন, খুলে যাচ্ছে নাটবোল্ট। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে সেতুটির ওপর দিয়ে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেসসহ প্রতিদিন প্রায় ২০টি ট্রেন চলাচল করে। সে সঙ্গে রয়েছে মালবাহী ট্রেনও।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মিত্রবাহিনী বোম্বিং করায় একটি গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিছুদিন বন্ধ রাখা হয় ট্রেন চলাচল। পরে ১৯৭২ সালে সংস্কারের পর পুনরায় চালু করা হয়। ১৯৭৮ সালে রেলওয়ের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ উম্মু ক্ত করে সেতুটি দিয়ে ট্রেন ও বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। মাত্রাতিরিক্ত পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে শুধু ট্রেন চলাচলের জন্য সেতুটি সংস্কার করা হয়। এলাকাবাসী সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করলেও বর্তমানে এ সেতু দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল করতে পারবে এমনটাই বলছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
গত ২২ মার্চ লালমনিরহাটে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এলে সে সময় তিস্তা রেলসেতু পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, কানেক্টিভিটি বাড়াতে তিস্তায় আরেকটি রেলসেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরাতন সেতুর পশ্চিম পাশেই ডুয়েলগেজ সেতু নির্মাণে খুব দ্রুত কার্যক্রম হাতে নেবে সরকার। লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার মুহাম্মদ শফিকুর রহমান জানান, গত ২৫ জুন একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিভাগের ছোট-বড় ৪০৮টি সেতুর খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। তিস্তা রেলসেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও সেতুটির পশ্চিম পাশে নতুন করে আরও একটি ডুয়েল ব্রডগেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সর্বশেষ..