সম্পাদকীয়

তৃণমূলে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন

স্বাস্থ্য মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আমাদের সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদে চিকিৎসাসেবা, জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদে’ জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি যুগোপযোগী করা, পুষ্টি, শিশু ও মাতৃমঙ্গল নিশ্চিত করা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ কয়েকটি অঙ্গীকার করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। শিশু ও গর্ভকালীন মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
এটি ঠিক, আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এখনও এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা সরকারের সাফল্যকে ম্লান করতে পারে। বর্তমান সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠাকে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করলেও এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ এর বাইরে রয়েছেন।
গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নীলফামারী সদর হাসপাতাল: নবজাতকের শয্যা সংকটে সেবা ব্যাহত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের দীনতাই উঠে এসেছে। খবরে জানা যায়, আধুনিক হাসপাতালটিতে শয্যা সংকটের কারণে নবজাতকদের বারান্দায় রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে সুস্থতার চেয়ে বেশি অসুস্থ হচ্ছে এক থেকে ২৮ দিন বয়সী নবজাতকরা। শুধু তা-ই নয়, রোগী নিয়ে থাকারও পরিবেশ নেই।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলো থেকে মানসম্মত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সরকারি হাসপাতালগুলো দেশের দরিদ্র মানুষের ভরসা। যে ২২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, তাদের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নেওয়া সম্ভব নয়।
সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে দাবি করছেন তিনি। কিন্তু সেটি চালু হওয়ার আগে ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যেত; কিন্তু তা হচ্ছে না। যখন উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের উপযোগী স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থা, ই-গভর্ন্যান্স, ই-হেলথ ও টেলিমেডিসিন সেবা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, তখন প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
আমরা আশা করি, সরকারি হাসপাতালগুলোতে মানসম্মত সেবাদান নিশ্চিত করে জনসাধারণ, বিশেষ করে দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।

সর্বশেষ..