বিশ্ব বাণিজ্য

তেলের উৎপাদন নিয়ে সিদ্ধান্ত আগামী জুনে

সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রীর দাবি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ভারসাম্য আনতে পণ্যটির উৎপাদন বা সরবরাহে দরকার হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব। তবে এখনই তেলের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো স্পষ্ট বার্তা মেলেনি দেশটির তরফ থেকে। গত শনিবার সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফলিহ দাবি করেছেন, তথ্য বলছে যুক্তরাষ্ট্রে এখনও তেলের মজুত ভাণ্ডার বাড়ছে। তাই আগামী জুনের আগে তেল রফতানিকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক উৎপাদন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। খবর: রয়টার্স।
সম্প্রতি ভারতসহ আট দেশকে ইরানের তেল আমদানিতে দেওয়া ছাড় তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তখনই তেল রফতানিকারীদের সংগঠন ওপেককে উত্তোলন বাড়াতে আর্জি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে বিশ্ববাজারে দর কমায় জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য উত্তোলন কমিয়েছে ওপেক। আবার ভেনেজুয়েলার তেল রফতানিতেও বসেছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গতকাল বৈঠক করার কথা ওপেক ও তাদের সহযোগী দেশগুলোর। ফলিহ? বলেন, ‘ওপেকের লক্ষ্য, মজুত ভাণ্ডার স্বাভাবিক অবস্থায় এনে বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করা। আর চাহিদামতো ব্যবস্থা নেওয়া।’ তার দাবি, মার্কিন মজুতভাণ্ডার টানা বাড়ছে, অর্থাৎ সরবরাহ প্রচুর। বস্তুত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের পরে মার্কিন মজুত ভাণ্ডার গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প পথে ও গন্তব্যে তেল রফতানির কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। নিষেধাজ্ঞার পরে মে মাসে তেহরানের রফতানি দিনে পাঁচ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের যে দর ব্যারেল প্রতি ৭০-৭৩ ডলারের ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, অনিশ্চয়তার জেরে তার ঊর্ধ্বসীমাকেও অদূর ভবিষ্যতে ছাড়াতে পারে। কারণ জোগান কমার পাশাপাশি এ বছরে বিশ্বে তেলের চাহিদাও বাড়বে বলে গত মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছে ওপেক।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বেশ খানিকটা কমে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ আরও শক্তিশালী করা এতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সর্বশেষ..