বিশ্ব বাণিজ্য

তেলের বাজারে অপ্রত্যাশিত অস্থিরতার হুশিয়ারি ইরানের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান নামদার জাঙ্গানে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করলে তেলের বাজারে অপ্রত্যাশিত অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের তেল রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে আরও কঠিন করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে আর বিশ্বের কোনো দেশকে ছাড় দেওয়া হবে না। এর জবাহে ওই হুশিয়ারি দিল ইরান। খবর: পার্সটুডে।
ইরানের তেলমন্ত্রী এ সম্পর্কে বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম সব সময় ওঠানামা করে এবং বিষয়টি এরকম নয় যে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি রয়েছে কিংবা বিশ্বের অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে তেলের উৎপাদন অনেক বেশি বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জাঙ্গানে বলেন, পম্পেও ইরানবিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবে তেহরানের ওপর চাপ বৃদ্ধির দাবি করেছেন। তেলের দাম প্রতিদিন বাড়ছে এবং এ বিষয়টি তেল নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগের প্রমাণ বহন করছে বলে ইরানের তেলমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধি করবেন, নাকি আমেরিকার পেট্রোল পাম্পগুলোয় তেলের দাম স্থিতিশীল রাখবেনÑসে সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই নিতে হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি একদিকে আন্তর্জাতিক ইরানি পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর আবার আরোপ করেছে নিষেধাজ্ঞা। য্ক্তুরাষ্ট্রের অভিযোগ, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সন্ত্রাসবাদে মদত দিচ্ছে ইরান।
ইরানের তেল রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধের উদ্দেশ্যে ওই আট দেশকে আমদানি সুবিধা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২ মে এ সুবিধার সময়সীমা শেষ হবে। সেটা সামনে রেখেই ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সম্প্রতি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের সহায়তা নেওয়া ওই আট দেশের তিনটিই ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। চীন, ভারত, গ্রিস, ইতালি, তাইওয়ান, জাপান, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানে তেল রফতানি বন্ধের শর্তে আমদানি সুবিধা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে কোন তিন দেশ আমদানি পুরোপুরি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে, সেগুলোর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
ইরানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত ব্রায়ান হুক বলেন, গত নভেম্বরে আমরা আট দেশকে সুবিধা দিয়েছিলাম যেন তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব না ফেলে। আজ আমি নিশ্চিত করতে চাই, তিনটি দেশ ইরান থেকে আমদানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ ব্যারেল তেল সরিয়ে নিয়েছে ইরান। ফলে তাদের এক হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */