তেল উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান ওপেকের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমছে। ইরানের ওপর আগামী মাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর সরবরাহ আরও কমবে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব চাহিদা মেটাতে উৎপাদকারী কোম্পানিগুলোকে সক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও বেশি বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ বার্কিনদো। খবর: রয়টার্স।
চলতি বছর তেলের দাম বেড়েই চলেছে। লন্ডনের ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার ৭৪ সেন্টে পৌঁছেছে। গত চার বছরের মধ্যে এ দামই সর্বোচ্চ। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানের তেল আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য অংশীদার দেশ ও কোম্পানিগুলোকে চাপ দিচ্ছে যাতে তেহরান থেকে তারা তেল না কেনে। ব্যবসায়ীরা পূর্বাভাস দিয়েছে, ইরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
একটি সম্মেলনে বার্কিনডো বলেন, প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর সক্ষমতা তুলানামূলক কমেছে। উত্তোলনে কম বিনিয়োগই এ সক্ষমতা কমার কারণ। ২০৪০ সালের মধ্যে চাহিদা মেটাতে বিশ্ব তেল খাতে ১১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
গত সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে ওপেক বলেছে, ২০৪০ সালে ২০১৭ সালের চেয়ে বিশ্বে প্রতিদিন ১৪ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের চাহিদা বাড়বে। তখন প্রতিদিন দরকার হবে ১১১ দশমিক সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেলের চাহিদা থাকবে।
সৌদি আরব একমাত্র দেশ যারা প্রয়োজনে সরবরাহ বাড়াতে পারবে এবং দেশটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
বার্কিনডো বলেন, বর্তমানে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ভারসাম্য রয়েছে। তবে ২০১৯ সালের সম্ভাব্য ভারসাম্যহীনতা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। ২০৪০ সালের শেষদিকে বিশ্ব চাহিদা বৃদ্ধির ৪০ শতাংশই হবে ভারতে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশটিতে ২০৪০ সালে প্রতিদিন পাঁচ দশমিক আট মিলিয়ন ব্যারেল তেলের চাহিদা বাড়বে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় ওপেকের চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্প্রতি সংশয় দেখা দিয়েছিল। বিশেষত চুক্তিভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’দেশ রাশিয়া ও সৌদি আরব চুক্তির শর্ত মেনে না চলায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। বৈঠকের প্রাক্কালে চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলনসীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। দেশটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সম্ভাব্য ঘাটতি এড়াতে বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রয়োজন হবে। ফলে ঘাটতির সম্ভাবনায় জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতিও ক্রমে চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এ কারণে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার বিপরীতে বর্তমান সীমার তুলনায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ১৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে চুক্তিভুক্ত ওপেক-নন ওপেক দেশগুলো।
ওপেকের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওপেকভুক্ত দেশগুলো ও ওপেকবহির্ভূত প্রধান উৎপাদন দেশগুলো দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।