ত্বরিত ব্যবস্থায় উপকৃত হবেন বিনিয়োগকারীরা

কারসাজি রুখতে বিএসইসির সিদ্ধান্ত

শেখ আবু তালেব: অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে ৩০টি কোম্পানির ওপর নজর রাখছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই কারণে ছয় কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সেই সঙ্গে গত ১৬ আগস্ট সাত কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। বিএসইসির পদক্ষেপ ও তার প্রভাব নিয়ে শেয়ার বিজের সঙ্গে কথা বলেছেন বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি ঠেকাতে বিএসইসি ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া যেত। সেক্ষেত্রে সেটা পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো হতো।’
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন বিএসইসির এ সিদ্ধান্ত ঠিকই আছে। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, এরকম কার্যকর সিদ্ধান্ত নিলে বিনিয়োগকারীরা দুর্বল কোম্পানির শেয়ার কিনতে ভেবে দেখবেন। তাদের সতর্ক করার প্রয়োজন ছিল। কোনো কারণ ছাড়াই স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়বে তা ঠিক নয়। কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় অবশ্যই লাগে। সমস্যা চিহ্নিত, কারণ নির্ণয় ও সমাধানে পৌঁছা একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হয়। কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল।’
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এটা খুবই প্রয়োজন ছিল। একটি ভালো পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। জুয়া খেলার জন্য যারা পুঁজিবাজারে এসেছে, এরা কারা? সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। আর যারা শেয়ার কারসাজি করছে, তারা কিছুতেই ভয় করছেন না। তাদেরও বুঝাতে হবে। তবে সিদ্ধান্তটা একটু দেরিতে হয়েছে। আরও আগে এরকম সিদ্ধান্তের প্রয়োজন ছিল।’
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বর্তমান পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘বিএসইসির কাজই হলো বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা। এটিই তারা করেছেন। কোম্পানির ইপিএস, পিই, রিজার্ভ, মূলধন ও উৎপাদন অবস্থান দেখেই শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেন বিনিয়োগকারীরা। এর বাইরে জোর করে শেয়ারদর বৃদ্ধির ফল ভালো হয় না। বিএসইসির এমন সিদ্ধান্তে প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। ইতিবাচক ধারায় ফিরবে পুঁজিবাজার।’
উল্লেখ্য, দর বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের মুুন্নু জুট স্টাফলার্স, প্রকৌশল খাতের বিডি অটোকারস ও চামড়া খাতের কোম্পানি লিগ্যাসি ফুটওয়ারের শেয়ার লেনদেন পরবর্তী ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ও বিডি অটোকারসের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য কোম্পানি মুন্নু জুট স্টাফলার্সের বিরুদ্ধে এর আগেই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। অন্যদিকে সিরামিক খাতের মুন্নু সিরামিক, প্রকৌশল খাতের আজিজ পাইপস ও কে অ্যান্ড কিউ, বস্ত্র খাতের স্টাইল ক্র্যাফট ও ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেডের শেয়ার স্পট মার্কেটে লেনদেনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।