ত্রিশালে খাল বন্ধ করে মাছ চাষে বিপাকে কৃষক

এম ইদ্রিছ আলী, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে ত্রিশাল উপজেলার মুন্সিপাড়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে একটি প্রভাবশালী মহল মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করেছে। এতে সেখানে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এর আশপাশের জমিতে চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করার ফলে সেখানকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ১০ একরের অধিক জমিতে এ বছর ফসল আবাদ করতে পারেননি জমির মালিকরা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বইলর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া ও হিন্দুপল্লী গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল থাকলেও স্থানীয় হাবিবুর রহমান ও ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের ভাই হাবিবুল্লাহ মৎস্য খামারের জন্য পুকুর খনন করে খালের দুই পাশ বন্ধ করে দেন। পানি নিষ্কাশনের ওই খালটি প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ একর জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা।

বর্ষার পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া ওই গ্রামের কৃষিনির্ভর কয়েকটি পরিবারের শেষ সম্বল আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ফসল ফলাতে না পেরে দরিদ্র ওই কৃষি পরিবারগুলোয় দেখা দিয়েছে অভাব। এজন্য দ্রুত খালটি খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকসহ স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেখানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মুন্সিপাড়া ও হিন্দুপল্লী গ্রামের পানি নিষ্কাশনের খালটির একপাশ খামার মালিক স্থানীয় হাবিবুর রহমান বন্ধ করে রেখেছেন। অপর প্রান্ত বন্ধ করে রেখেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের ভাই হাবিবুল্লাহ। সেখানে বর্ষার পানিতে প্রায় ১০ একর জমিতে এখনও হাঁটুপানি জমে আছে। ফলে ফসল ফলানোর কোনো পরিস্থিতি নেই। অথচ এক বছর আগেও ওই জমিতে আউশ, আমন ও বোরো ধানের নিয়মিত চাষ হতো।

হিন্দুপল্লী গ্রামের কৃষক মমতাজ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, আমাদের প্রায় চার একর জমির পুরোটাই পানির নিচে। অভাবের সংসার, ধান চাষ করতে না পেরে শীতে পিঠা-চিড়া তো দূরের কথা দু’বেলা ঠিকমতো ভাতই জোটে না। গত বর্ষায় বাড়িও হাঁটু পানিতে তলিয়ে ছিল বলে জানান তিনি।

একমাত্র সম্বল ৫০ শতাংশ কৃষিজমির মালিক কৃষক বাদশা মিয়া বলেন, ‘ফসল করবার না পাইরা গোষ্ঠী খাওন বেগারে (অভাবে) মরতাছে।’ এছাড়া কৃষক মিজানুর রহমান, আবদুল খালেক, প্রফুল্ল চন্দ্র তিলকদারসহ অন্য  কয়েকজন জানান, জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে প্রায় ১০ একর জমি পতিত পড়ে আছে।

এ ব্যাপারে খামার মালিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমার জমিতে আমি খামার করেছি এতে সমস্যার কী আছে!’ তবে হাবিবুল্লাহ বলেন, কৃষকদের ভোগান্তি দূর করতে তিনি যেকোনো সময় ছাড় দিতে রাজি আছেন। তবে হাবিবুর রহমান কোনো সমঝোতায় আসতে চান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল জানান, বিষয়টি জানতে পেরে সমস্যা সমাধানে বর্ষা মৌসুমে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বড় ধরনের ওই সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ায় আবারও সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে কৃষি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পানি নিষ্কাশনের সমাধান না হলে খামার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।