বিশ্ব বাণিজ্য

দক্ষিণ কোরিয়ায় কমেছে জাপানের গাড়ি রফতানি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানের গাড়ি বিক্রি কমেছে। দু’দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের বাণিজ্য বিবাদেই মূলত বিক্রি কমেছে। খবর: বিবিসি।
জুলাইয়ের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্য রফতানিতে বিশেষ সুবিধা তুলে নেওয়ায় জাপানি পণ্য বয়কটের ডাক আসে সিউল থেকে। গত সপ্তাহে জাপান তাদের বিশ্বস্ত বাণিজ্য অংশীদারের তালিকা থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে বাদ দেয়। এতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
প্রতিবেদন মতে, গত মাসে জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার দক্ষিণ কোরিয়ায় গাড়ি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৩২ শতাংশ। এছাড়া হোন্ডার গাড়ি বিক্রি কমেছে ৩৪ শতাংশ।
এদিকে গত সোমবার আমদানিনির্ভরতা কমাতে স্থানীয় কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম উন্নয়নের লক্ষ্যে রিরার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরঅ্যান্ডডি) বিভাগে ৬৪৮ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। মূলত জাপানের সঙ্গে বিবাদের পরই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
বিরোধের সূত্রপাত মূলত গত বছরের অক্টোবরে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিমকোর্ট জাপানের নিপ্পন স্টিল কোম্পানির প্রতি একটি রুল জারি করেন। ১৯১০-৪৫ সালে ঔপনিবেশিক আইনের আওতায় কোরিয়ার নাগরিকদের বাধ্যতামূলক শ্রমের বিধান করেছিল জাপান। ১৯৬৫ সালে দু’দেশ বিষয়টি ফয়সালা করে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল করে। কিন্তু হঠাৎ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিমকোর্ট রুল জারি করে নিপ্পন স্টিলকে সেই ‘শ্রমিক নির্যাতনের’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের এ আদেশ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে জাপান সরকার। এ নিয়ে কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনারও প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু অন্য পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।
জানা গেছে, স্মার্টফোন ও টেলিভিশনের ডিসপ্লে তৈরিতে ব্যবহৃত ফ্লুরিনেটেড পলিমাইড ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত বিশুদ্ধ হাইড্রোজেন ফ্লুরাইড গ্যাস (ইচিং গ্যাস) ও রেসিস্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। এ তিনটি কাঁচামাল দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানির ক্ষেত্রে আর অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নেবে না জাপান। তার মানে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রত্যেকবার রফতানিতে সরকারের অনুমোদন লাগবে।
বিশ্ববাজারে প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় ফ্লুরিনেটেড পলিমাইড ও রেসিস্টের ৯০ শতাংশ এবং ইচিং গ্যাসের প্রায় ৭০ শতাংশই উৎপাদন করে জাপান। কাঁচামালের জন্য জাপানকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করে বিকল্প উৎপাদক খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে। ফলে টোকিওর সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এলজি ইলেকট্রনিকস বিপাকে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সর্বশেষ..