বিশ্ব সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানি পণ্য বর্জনের ডাক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এক মীমাংসিত ঘটনায় সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের রুল জারির পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এর অংশ হিসেবে ৪ জুলাই থেকে স্মার্টফোন ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহার করা মূল্যবান কাঁচামাল দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। এর পাল্টা হিসেবে এবার জাপানি পণ্য বর্জনের ডাক উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। খবর: রয়টার্স।
ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জাপানি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রায় ২৭ হাজার মানুষ গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট অফিসের ওয়েবসাইটে জাপানি পণ্য বর্জন এবং জাপানিদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পিটিশন সই করেন। গত এক মাসে এ পিটিশনে সই করেছেন দুই লাখ মানুষ।
সিউলে জাপানের গাড়ির শোরুমগুলোর সামনে বিক্ষোভ করা গ্রুপ মুভমেন্ট ফর ওয়ান কোরিয়ার কর্মী চই-জে-ইয়ন বলেন, জাপান সরকারের নেওয়া এ পদক্ষেপে আমরা ক্ষুব্ধ। পণ্য বর্জনের ডাক দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
বিরোধের সূত্রপাত মূলত গত বছরের অক্টোবরে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিমকোর্ট জাপানের নিপ্পন স্টিল কোম্পানির প্রতি একটি রুল জারি করেন। ১৯১০-৪৫ সালে ঔপনিবেশিক আইনের আওতায় কোরিয়ার নাগরিকদের বাধ্যতামূলক শ্রমের বিধান করেছিল জাপান। ১৯৬৫ সালে দুই দেশ বিষয়টি ফয়সালা করে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল করে। কিন্তু হঠাৎ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সুপ্রিমকোর্ট রুল জারি করে নিপ্পন স্টিলকে সেই ‘শ্রমিক নির্যাতনের’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের এ আদেশ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে জাপান সরকার। এ নিয়ে কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনারও প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু অন্য পক্ষ থেকে সাড়া না পাওয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাপান। স্মার্টফোন ও টেলিভিশনের ডিসপ্লে তৈরিতে ব্যবহার করা ফ্লুরিনেটেড পলিমাইড ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহার করা বিশুদ্ধ হাইড্রোজেন ফ্লুরাইড গ্যাস (ইচিং গ্যাস) ও রেসিস্ট দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। এ তিনটি কাঁচামাল দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানির ক্ষেত্রে আর অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নেবে না জাপান। তার মানে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রত্যেকবার রফতানিতে সরকারের অনুমোদন লাগবে। আর এ অনুমোদন পেতে ৯০ দিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
বিশ্ববাজারে প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতে প্রয়োজনীয় ফ্লুরিনেটেড পলিমাইড ও রেসিস্টের ৯০ শতাংশ এবং ইচিং গ্যাসের প্রায় ৭০ শতাংশই উৎপাদন করে জাপান। এসব কাঁচামালের জন্য জাপানকে বাদ দিয়ে হঠাৎ করে বিকল্প উৎপাদক খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে। ফলে টোকিওর সিদ্ধান্তের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এলজি ইলেকট্রনিকস বেশ বিপাকে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
জাপানের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী হং নাম কি পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। কোরিয়া সরকার বলছে, জাপানের এ পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধানের পরিপন্থি। বাণিজ্য, শিল্প ও জ্বালানিমন্ত্রী সুং উন মো বলেছেন, এ নিয়ে ডব্লিউটিওতে জাপানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা হবে।

সর্বশেষ..