দরপতন প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী ছিল পাট খাত

রুবাইয়াত রিক্তা: ব্যাপক পতনের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই সূচক পতনের পাশাপাশি লেনদেন কমে যাচ্ছে। কমছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। বাজার মূলধনও দ্রুতগতিতে নেমে যাচ্ছে। সবগুলো খাতেই ছিল দরপতনের প্রতিযোগিতা যেন কোন খাতে কত বেশি শেয়ারের দরপতন হতে পারে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল পাট খাত।
গতকাল ডিএসইতে ৩৪০টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। আর ৬৯ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ডিএসইএক্স সূচকের ৭৯ পয়েন্ট পতন হয়। লেনদেন কমেছে সোয়া চার কোটি টাকা। তবে বাজার পতনের কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ জানা যায়নি। কারণ জুন ক্লোজিং বেশিরভাগ কোম্পানির ইপিএস ভালো হওয়ার পাশাপাশি লভ্যাংশও সন্তোষজনক মানের রয়েছে। তা সত্ত্বেও বড় বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তায় লেনদেন স্থবির হয়ে পড়েছে।
গতকাল একমাত্র ইতিবাচক পাট খাতে তিন কোম্পানির মধ্যে দুটির দর বেড়েছে। এর মধ্যে নর্দার্ন জুটের দর ২৯ টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে সবশেষ লেনদেন হয় ৫৫৩ টাকা ৮০ পয়সায়। জেড ক্যাটেগরির একটি শেয়ার এত উচ্চদরে লেনদেন হওয়ার কারণ কী সেটা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এছাড়া সোনালী আঁশের দর বেড়েছে পাঁচ টাকা ১০ পয়সা। পাট খাতে আগেরদিনের থেকে লেনদেন বেড়েছে ৬৭ লাখ টাকা। আর বাকি সবগুলো খাত পতনে ছিল। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ। এ খাতে ৬৫ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। রহিম টেক্সটাইল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। ড্রাগন সোয়েটারের ২৪ কোটি ও ভিএফএস থ্রেডের সাড়ে ৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১৫ শতাংশ। এ খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। খুলনা পাওয়ারের সাড়ে ২৪ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয়। সামিট পাওয়ারের ২১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৪ শতাংশ লেনদেন হয়, দর কমেছে ৬১ শতাংশ কোম্পানির। প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস। লিবরা ইনফিউশনের দর সাড়ে সাত শতাংশ বেড়েছে। স্কয়ার ফার্মার দর কমলেও লেনদেন হয় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৭৫ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ব্যাংক খাতে ১১ শতাংশ লেনদেন হলেও ৮০ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। এছাড়া সিরামিক খাত, টেলিযোগাযোগ, সেবা ও আবাসন, কাগজ ও মুদ্রণ খাত শতভাগ নেতিবাচক অবস্থানে ছিল।