দায়িত্বশীল ভূমিকা থেকে সরে যাচ্ছে আইসিবি

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

আইসিবির কাজ হচ্ছে পুঁজিবাজারকে ঠিক রাখা। মানে বাজার যখন অধিক বেড়ে বা কমে যাবে, তখন শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে মনে হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল ভূমিকা থেকে সরে এসেছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। এমন বক্তব্য উঠে আসে গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচে। সাংবাদিক হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইনজীবী ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হাসান মাহমুদ বিপ্লব।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, আইসিবির কাজ পুঁজিবাজারকে ঠিক রাখা। মানে বাজার যখন অধিক বেড়ে বা কমে যাবে তখন শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় মাধ্যমে পুঁজিবাজারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। সম্প্রতি বাজারে যে পতন হয়েছিল, সেখানে আইসিবির শেয়ার বিক্রির চাপ একটি ভূমিকা রেখেছে। আইসিবির যে দুই হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তা পূরণে তাদের ব্যাংকে থাকা স্থায়ী আমানত ভাঙানো উচিত ছিল। অথবা স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ঋণ নিয়ে ঘাটতি পূরণ করা যেত। কিন্তু তা না করে তাড়াহুড়া করে শেয়ার বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটির যে ভূমিকা, তা খর্ব হয়েছে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, আইসিবি দায়িত্বশীল ভূমিকা থেকে সরে যাচ্ছে।

এ ধরনের কাজ হলে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট হবে। আমরা দেখেছি, রেসে যারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের এখন খারাপ অবস্থা চলছে। আর এই রেসেরই এমডি ও চেয়ারম্যান ফার্মাস ব্যাংকের দায়িত্ব পেয়েছে। ফলে বেইল আউটের জন্য যদি আইসিবির টাকা যায় এবং যাদের দায়িত্বে গেছে তাদের ১০ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডের দাম আমরা পাঁচ-চার এবং তিন টাকাও হতে দেখেছি। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের মানুষের ব্যাংক উদ্ধারের জন্য রাষ্ট্র বা আইসিবিরই কী প্রয়োজনÑসেটা আসলে চিন্তার বিষয়। এ ধরনের জায়গা থেকে আইসিবির বিরত থাকা দরকার বলে মনে করি।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ করলে দেখবেন, বেইল আউটের টাকা দিয়ে কোনো ব্যাংক ভালো হতে পারে না। সোনালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, বেইল আউটের টাকা দিয়েও পরিস্থিতির একটুও উন্নতি হয়নি। তাছাড়া ফারমার্স ব্যাংকসহ আরও

দু-চারটি ব্যাংক আছে, যাদের অর্থনীতিতে তেমন গুরুত্ব নেই। কাজেই এ গুরুত্বহীন জিনিসগুলো বাঁচাতে গিয়ে আইসিবির যে সুনাম আছে, সেটি নষ্ট করার কোনো মানেই হয় না। আইসিবিকে সোনালী বা জনতা ব্যাংক বানানোর কোনো দরকারই নেই। তাছাড়া বিভিন্ন ঋণ দেওয়ার জন্য আইসিবি গঠিত হয়নি। তাদের প্রথম কাজ পুঁজিবাজার রক্ষা করা। সেখানে পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার বিক্রি করে বাজারের কী অবস্থা হলো, তা না দেখে ফারমার্স ব্যাংককে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া যৌক্তিক বলে মনে করি না।

তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে ভালো শেয়ারগুলো আইসিবি সংগ্রহ করে। কিন্তু কিছু খারাপ শেয়ার তারা যে দামে কেনে, সেটি নিয়ে আমারও প্রশ্ন থাকে। এক্ষেত্রে কিছু অসাধু চক্র আছে। তাদের কারণেই হয়তো এমনটা হয় এবং এটি দেশের সব জায়গাতেই আছে। তবে আইসিবি বেশ কিছু ভালো কাজ করছে। তারা ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সব স্থানীয় শেয়ার বিক্রি করে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির শেয়ার কিনেছে।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম