দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক

রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের মোবাইল বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী মো. খোকন অর রশীদ। ২০০৫ সালের দিকে একটি মোবাইল ফোনের দোকানে চাকরি করতেন। তিন বছরের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ২০০৮ সালে নিজেই মোবাইল ফোনের দোকান দেন তিনি। তবে পুঁজি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছিলেন না। তাই ব্যবসার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। তখন তার স্বপ্ন পূরণে সারথি হয়ে পাশে দাঁড়ায় দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড (ডিএমসিবি)। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাকে সদস্য করিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর আর নগদ পুঁজির পেছনে ছুটতে হয়নি খোকনকে। ২০১৭ সালের মে মাসে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে খোকন তার ব্যবসার পরিধি বিস্তৃত করেন, গুলশান নতুন বাজার এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করেন।
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ব্যাটারি দোকানের ব্যবসায়ী মো. জাফরও ডিএমসিবির আর্থিক সহায়তা নিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাগদা ও গলদার রেণু সরবরাহকারী ব্যবসায়ী মো. রোকন শিকারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. মাহাবুব আলম, রতন বাবু, লাভলী আক্তার, মোছা. হীরা বেগম কিংবা পৃথী ফ্যাশন হাউজের মালিক ফাত্তা বিউনি-ই নন, আরও অসংখ্য মানুষকে সাফল্যের পথে হাঁটতে শিখিয়েছে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক, তাদের জীবনে সফলতার মূল চাবিকাঠি হয়ে পাশে রয়েছে।
সৎ, উদ্যমী ও কর্মঠ ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে বিনিয়োগ দেয় দি ঢাকা মার্কেন্টাইল
কো-অপারেটিভ ব্যাংক। ১৯৭৩ সালে যাত্রা শুরু হয় এর। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিনিয়োগ প্রদানের কর্মসূচি অব্যাহত রেখে চলেছে ডিএমসিবি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও খুচরা ব্যবসায়ী সদস্য উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিভিন্ন খাতে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এ ধারা অব্যাহত রাখছে।
২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে ৪৬ বছরে পদার্পণ করেছে ডিএমসিবি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আমানতকারীদের পাশে রয়েছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে সমবায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের বিচক্ষণতা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের স্বাধীনতা এক্ষেত্রে অবদান রেখেছে।
ডিএমসিবির বর্তমান সদস্য দুই লাখ ছয় হাজার ৭৯৬। শাখা ১২৭টি। উপশাখা তিনটি। প্রসঙ্গত, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাতটি নতুন শাখা খোলা হয়েছে। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আরও কয়েকটি নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন দুই হাজার ৭৭০ জন।
সুশাসন নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে ডিএমসিবি। এছাড়া উপযুক্ত কর্মকৌশল প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সমবায় সমিতি আইন ও বিধি সমুন্নত রাখা হয় এখানে। এ কারণে বিনিয়োগ-আমানতকে একটি আদর্শ অনুপাতের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছে। ফলে সঠিক তারল্য ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের জুলাইয়ে শরিয়াহ্ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা হয় এখানে। শরিয়াহ্র মূলনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি কল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ডিএমসিবি।
ডিএমসিবিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব) আবু জাফর চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উপদেষ্টা তিনি। পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সফল বৈমানিক ছিলেন। তার ইতিবাচক ও বাস্তবমুখী কর্মের ফসল এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সবার আর্থিক, পারিবারিক, সামাজিক, মানসিক ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে সৎ, বিনয়ী ও মিতব্যয়ী মানুষ হতে প্রেরণা দেন। ব্যবস্থাপনা টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন শামসুন নাহার জাফর। তার পেশাগত দক্ষতা, গতিশীল নেতৃত্ব ও দুরদর্শিতা প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য করে তুলেছে। পরিচালনা পর্ষদে আরও রয়েছেন মোস্তাক আহমদ খান আলমগীর ও
মো. মুনিরুল ইসলাম।
সমাজের উন্নয়নে সামাজিক দায়বদ্ধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে ডিএমসিবি। দুস্থ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্য সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিবছর গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়ন ও খেলাধুলায় সহায়তা করে। প্রতিবছর বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় সহায়তা করে থাকে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড (ডিএমসিবি)।

রতন কুমার দাস