প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছাড়া বাজার স্থিতিশীল হবে না

রুবাইয়াত রিক্তা: রমজান মাসের প্রথম দিন বড় পতন দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন হলো পুঁজিবাজারে। মাত্র তিনদিন উত্থানের পর গত দুদিন ধরে চলছে মুনাফা তোলার প্রবণতা। গত তিন দিনে উত্থানের গতি যেমন ছিল, গত দুদিন ধরে সেভাবেই নামছে সূচক। টানা বিক্রির চাপে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৭৫ শতাংশ কোম্পানি দর হারিয়েছে। মাত্র ১৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। সব খাতেই ছিল দরপতনের আধিক্য। কোনো খাতকেই ইতিবাচক অবস্থানে দেখা যায়নি। এর মধ্যে টেলিযোগাযোগ, কাগজ ও মুদ্রণ এবং পাট খাতে শতভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল জ্বালানি খাত। জানা গেছে, বাজার গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে আইসিবি শেয়ার কেনা শুরু করে। মাত্র তিন দিন কিনেই যদি মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য বিক্রি শুরু করে, তাহলে বাজার স্থিতিশীল করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কী ভূমিকা রাখছে? প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যদি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ না করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো তিন দিনের জন্য শেয়ার কেনে তাহলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আসবে কোথা থেকে?
গতকাল তিন শতাংশ কমে প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৪ শতাংশ। এ খাতে ৭৮ শতাংশ কোম্পানি দরপতনে ছিল। ন্যাশনাল টিউবসের আট কোটি টাকা এবং ন্যাশনাল পলিমারের পৌনে আট কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতনে ছিল কোম্পানি দুটি। জ্বালানি খাতে পাঁচ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। তবে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে এ খাতের পাওয়ার গ্রিড, ডেসকো ও তিতাস গ্যাস। এসব শেয়ারের দর সোয়া তিন শতাংশ থেকে প্রায় পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সোয়া ১৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে পাওয়ার গ্রিড লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। বস্ত্র এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১১ শতাংশ করে লেনদেন হয়। বস্ত্র খাতে মাত্র ১৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এসক্যোয়ার নিটের ১২ কোটি টাকার লেনদেন হলেও দরপতন হয়। ওষুধ খাতে ২৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ইন্দোবাংলা ফার্মার সাড়ে ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ১০ পয়সা। অ্যাডভেন্ট ফার্মার পৌনে আট কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বাড়ে ৮০ পয়সা। ফরচুন সুজের প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয়। তবে সিরামিক খাতের মুন্নু সিরামিকের সোয়া ১২ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ১৬ টাকা। কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস ১০ পয়সা কমলেও তিন প্রান্তিকে মিলে বেড়েছে। শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য তিন প্রান্তিক মিলে কমেছে। টানা চার কার্যদিবস ধরে শেয়ারটির দর বাড়ছে।

সর্বশেষ..