স্পোর্টস

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ব্রাজিলের

কোপা আমেরিকা

ক্রীড়া ডেস্ক: সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, শক্তিমত্তা, পরিসংখ্যান সব দিক দিয়েই পেরুর চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ব্রাজিল। তাই ১২ বছর পর কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতার অপেক্ষায় ছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত গত পরশু ঘরের মাঠে একপেশে ম্যাচ জিতে সেলেসাওদের আনন্দে মাতান এভারটন-গ্যাব্রিয়েল জেসুসরা।
এবারের কোপার শুরু থেকে চমক দিয়ে এগোচ্ছিল পেরু। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে যা নিয়ে বেশ ভাবনায় পড়েছিল ব্রাজিল। তবে গত পরশু বল মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু মহূর্তেই দূর করে ৩-১ গোলের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। তাতে ২০০৭ সালের পর কোপার শিরোপা জিতে সমর্থকদের আনন্দে মাতায় দলটি।
এর আগে ২০১৬ সালে এই পেরুর কাছে হেরেই কোপার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। সে হিসেবে এবার প্রতিশোধটাও নিয়েছে দলটি। এ নিয়ে এ টুর্নামেন্টে ৯ বার শিরোপা ঘরে তুলেছে স্বাগতিকরা।
রিও ডি জেনেইরোতে গত পরশু প্রথমার্ধেই ব্রাজিলকে এভারটন, গ্যাব্রিয়েল এগিয়ে দেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে রিকার্লিসন জয় নিশ্চিতের গোলটি করেন। বিরতির আগে অবশ্য পেনাল্টি থেকে পেরুর ব্যবধান কমানোর গোলটি করেন গুরেরো।
ঘরের মাঠে এগিয়ে যেতে ব্রাজিলের অপেক্ষা করতে হয় ১৫ মিনিট পর্যন্ত। সে সময় ডি বক্সের বাইরে থেকে জেসুসের লম্বা করে বাড়ানো বলে পা ছুঁয়ে জালে জড়ান এভারটন। এর ২০ মিনিট পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ব্যবধান বাড়াতে পারত। কিন্তু সে সময় এভারটনের বাড়ানো বলে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি ফিলিপে কৌতিনহো।
পেরু অবশ্য সমতায় ফেরে ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে পেনান্টি থেকে। ডি-বক্সে বল থিয়াগো সিলভার হাতে লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পরে ভিএআর প্রযুক্তিতে দেখে সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রাখেন তিনি। এ সুযোগে পাওলো গুরেরো নেন সফল স্পট কিক। তবে অতিথিদের এ আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি গ্যাব্রিয়েল জেসুস। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ঠিকই লিড ২-০ করেন তিনি। আর্থারের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে নিচু কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ম্যানচেস্টার সিটির এ ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ব্যবধান বাড়িয়ে নিয়ে পেরুর রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ করে ব্রাজিল। এ সুযোগে দুবার প্রতিপক্ষের জালে বলও জড়াতে পারতেন ফিরমিনো। কিন্তু একবারও লক্ষ্যে বল রাখতে পারেননি তিনি। এর পরপরই ম্যাচে ৭০তম মিনিটে পেরুর ডিফেন্ডারকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জেসুস। তারপরও দমে যায়নি দলটি। উল্টো শেষ মুহূর্তে গোল আদায় করে নেয়। পেরুর ডি বক্সে এভারটন ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে সফল স্পট কিক নেন ফিরমিনোর বদলি হিসেবে নামা রিকার্লিসন। শেষ পর্যন্ত তার নৈপুণ্যে ৩-১ গোলে জিতে ১২ বছর পর কোপার শিরোপা পুনরুদ্ধারের আনন্দে মেতে ওঠে ব্রাজিল শিবির।
একনজরে কোপার সেরারা
সেরা খেলোয়াড়: দানি আলভেজ
ফাইনালে সেরা: এভারটন
সেরা গোলরক্ষক: আলিসন

সর্বশেষ..