স্পোর্টস

দীর্ঘ সফর শেষে ফিরলেন মাশরাফিরা

ক্রীড়া ডেস্ক: সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে দ্বাদশ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য পূরণের শুরুটাও দারুণ হয়েছিল টাইগারদের। কিন্তু এ টুর্নামেন্টের রাউন্ড রবিন লিগের শেষদিকে এসে টানা হারে নিমেষেই সব আশা শেষ হয়ে যায় লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। যা সঙ্গী করে গতকাল বিকালে দেশে ফিরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা।

এর আগে গত পরশু লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিট (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে) এমিরেটস এয়ার লাইনসের একটি ফ্লাইটে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে রওনা হয় বাংলাদেশ দল। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে গতকাল বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ১১ টাইগার। আগে থেকে সেখানে তাদের স্বাগত জানাতে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী ও উৎসুক ভক্তরা।
গতকাল দেশে ফেরেননি সাকিব আল হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান ও লিটন দাস। লন্ডন থেকে স্ত্রী শিশির ও কন্যা অ্যালাইনা হাসান অব্রিকে নিয়ে সাকিবের বেড়াতে যাওয়ার কথা ইউরোপে। বাকি তিনজন ইংল্যান্ডেই থাকবেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকে এক সপ্তাহ পর সাকিব ছাড়া বাকি তিন ক্রিকেটারের দেশে ফেরার কথা।
বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণ না হলেও খেলার ধরনে মাশরাফির মনে হয়েছে ভালো করেছে দল, ‘বিশ্বকাপের আশা পূরণ অবশ্যই হয়নি। তবে খেলার ধরন যদি দেখেন, তাহলে আমাদের দল ভালো খেলেছে। সাকিব, মুশফিক, মোস্তাফিজ ও সাইফউদ্দিন অনেক ভালো খেলেছে। আর যারা মোটামুটি পারফর্ম করেছে, আমার মনে হয় খুব ভালো পারফর্ম করেছে।’
ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে অনুজ্জ্বল ছিলেন মাশরাফি। যে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ব্যাপারটিকে অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন মাশরাফি, ‘না, এটা স্বাভাবিক। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও তাকে সমালোচনা নিতে হতো। আমি অবশ্যই পুরো দায়ভার নিচ্ছি, নিতেও হবে। একইসঙ্গে আমি বলব, সমালোচনা হয়েছে, হবে; সারা দেশে, সারা বিশ্বে। বিশেষ করে একটা টুর্নামেন্ট বা সিরিজের পরে হবে এটা (সমালোচনা) খুবই স্বাভাবিক।’
সেমিফাইনালে না হোক পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে ওঠার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সে সুযোগও টাইগাররা হারায় ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে। এ ব্যাপারে মাশরাফি বলেন, ‘দেখেন, প্রত্যেকটা ম্যাচই এমন। পাঁচে যাওয়ার সুযোগ ছিল শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত। তার মানে আমরা শেষ ম্যাচটি শেষ করতে পারলে পাঁচে যেতাম। আমি শিওর দেশের সাধারণ মানুষ বা আমাদের খেলোয়াড়দের সবার আশা ছিল, চারের ভেতর থাকা। যদি চারে থাকতে না পারি তাহলে কেমন হলো, পাঁচে থাকলে অন্যরকম হতো।’
মাশরাফি আরও বলেন, ‘একই সময়ে দেখা যায়, চারে যদি থাকতে না পারি তাহলে কেমন দেখায়। দেখেন, দলের ধারাবাহিক বলে একটা কথা আছে। আজকে যারা সিনিয়র প্লেয়ার, তারা এক সময় তরুণ ছিল। তখন এতটা ধারাবাহিক ছিল না। আজকে যারা তরুণ প্লেয়ার, তারা ধারাবাহিক খেলছে। এত প্রেসার নিয়ে তারা খেলছে, আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন আমরাও এমন খেলতে পারিনি। তাই, তাদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। তারা অনেক চেষ্টা করেছে। টুর্নামেন্টটা অনেক বড়। তাই, এখানে এটা এত সহজ না। কিন্তু আমি আশা করি, অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে দলও এগিয়ে যাবে।’
এর আগে গত ১ মে বিশ্বকাপ ও আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে প্রায় সোয়া দুই মাসের লম্বা সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরছেন মাশরাফিরা।
এবারের বিশ্বকাপ অভিযান দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষেও জিতেছিল টিম টাইগার্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ ভেসেছিল বৃষ্টিতে। সব মিলিয়ে মোট ৯ ম্যাচে ৩টিতে জিতে মাশরাফির দল। আর বাকি ৫ ম্যাচে হেরে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার অষ্টম অবস্থানে থেকেই দেশে ফিরেছে ম্যাশ বাহিনী।

 

 

সর্বশেষ..