স্পোর্টস

দুঃসময়ে মোস্তাফিজের পাশে রোডস

ক্রীড়া ডেস্ক: চোটের পর থেকেই নিজেকে ঠিক চেনাতে পারছেন না মোস্তাফিজুর রহমান। তাই তো এ বাঁহাতির চলতি আয়ারল্যান্ড সফর এখন পর্যন্ত মোটেও ভালো কাটেনি। প্রস্তুতি ম্যাচ ও ত্রিদেশীয় সিরিজের মূল ম্যাচে বোলিং করে মোট রান দিয়েছেন ১৭৭। নিয়েছেন মাত্র ২টি উইকেট। তাতে এ বাঁহাতি পেসার পড়েছেন সমালোচনায়। ঠিক সে সময় প্রিয় শিষ্যর পাশে দাঁড়ালেন প্রধান কোচ স্টিভ রোডস।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে মোস্তাফিজ দিয়েছিলেন ৮৪ রান। নিয়েছেন ২টি উইকেট। এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে কার্টার মাস্টার দিয়েছিলেন ৯৩ রান। ছিলেন উইকেট শূন্য। স্বাভাবিকভাবেই এ বাঁহাতি পড়েছেন প্রশ্নের মুখে। তবে ব্যাপারটি নিয়ে কিছুই ভাবছেন না রোডস। উল্টো তিনি আশা করছেন দ্রুতই ছন্দ ফিরে পাবেন এ বাঁহাতি।
কিছুদিন আগেও ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থানে ছিলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়টা ভালো না যাওয়ায় দ্রুতই অধঃপতন হয়েছে এ বাঁহাতি পেসারের।
এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৩ ইনিংসে ৫০-এর বেশি রান মোস্তাফিজ দিয়েছেন ১২ বার। এদিকে ১৬ বার চার কিংবা এর নিচে ইকোনমি রেট ছিল। এর ১০ বারই ২০১৮ সাল কিংবা এর পর থেকে। এ হিসেবে বলা যায় এ বাঁহাতি পেসার যেদিন খারাপ করেছেন সেদিন খুব খারাপ করছেন। আবার যেদিন ভালো করেছেন সেদিন খুব ভালো। তা না হলে ২০১৮ সাল থেকে গত এক বছরের কিছুটা বেশি সময়ে ওয়ানডেতে তার বোলিং যে কোনো বোলারের কাছেই পরম প্রার্থনীয়। ২২ ম্যাচে ৩৫ উইকেট। গড় (২৫.২৮) ও ইকোনমি (৪.৭৩) দুটিই ওয়ানডে বোলিংয়ের জন্য আদর্শ। এ হিসাব গত দুই ম্যাচে দেওয়া ১৭৭ রান যোগ করার পরও।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণে অনেকদিন ধরেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোস্তাফিজ। আসন্ন বিশ্বকাপেও তাকে এ ভূমিকায় দেখতে চেয়েছেন ভক্তরা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে চেনা ছন্দে নেই তিনি। তাই তাকে নিয়ে চিন্তিত টিম টাইগার্স।
গত পরশু বৃষ্টির কারণে পণ্ড হওয়া বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের পর মোস্তাফিজকে নিয়ে রোডস বলেন, ‘আমি ওকে নিয়ে চিন্তিত নই। সে ওয়ানডেতে খুবই দুর্দান্ত বোলার। খুব বেশিদিন হয়নি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ পাঁচে ছিল। বাংলাদেশের খুব বেশি খেলোয়াড় নেই, যারা র‌্যাংকিংয়ের সেরা পাঁচে থাকতে পেরেছে। হ্যাঁ, আরেকটু ধারাবাহিক হতে হবে।’
এদিকে দুঃসময়ে মোস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাকিব আল হাসান, ‘শুধু তো ওর রান দেওয়াটা দেখলে হবে না, ও কোথায় বোলিং করছে, সেটাও দেখতে হবে। বাকিরা তো ও রকম সময়ে (ডেথ ওভারে) এত বেশি বল করে না। এটা কিন্তু বুঝতে হবে। ওই রকম সময়ে, শেষ ১০ ওভারে ওর জন্য ৪ ওভার রাখা হয়। ওই ৪ ওভারে সাধারণ হিসাবে ধরা হয় কেউ যদি ৩৫ রানের কম দেয়, তাহলেই সে ভালো বোলার। এর আগে ৪ ওভারে ও যদি ৩০ রানও দেয়, শেষের ৩৫ যোগ করলে এমনিতেই তো ৬৫ রান হয়ে গেল। প্রতিটা খেলোয়াড়েরই দলে একেকটা ভূমিকা নির্দিষ্ট করা আছে। ফলে শুধু স্কোরবোর্ড দেখে একেকজন খেলোয়াড়ের মান যাচাই করলে সেটা ভুল হবে।’
আগামী সোমবার ত্রিদেশীয় সিরিজের নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত এ টুর্নামেন্টে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে টাইগাররা।

সর্বশেষ..