দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে…

ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন খুলনা মহকুমার ভৈরব নদের তীরে একটি ছোট হাট ছিল। এর নাম ছিল সাহেবের হাট। মূলত মহকুমা হিসেবে খুলনার যাত্রা শুরুর পর হাটটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

জনশ্রুতি আছে, জনৈক রেনি সাহেব হাটটির গোড়াপত্তন করেন। এজন্য একে সাহেবের হাট বলা হতো। কেউ কেউ বলতেন চার্লিগঞ্জ। এভাবেই পরিচিত হয়ে ওঠে সেই হাট।

সময় গড়ায়। ১৮৮৪ সালে জেলায় রূপ পায় খুলনা। এর সঙ্গে বড় হতে থাকে হাটটি। ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। কেনাবেচাও হতে থাকে বেশ। কালের বিবর্তনে পরিবর্তিত হয়ে এর নাম রূপ নেয় ‘বড়বাজার’ নামে।

খুলনা নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদের পাড় ঘেঁষে ভৈরব স্ট্যান্ড রোড, ওয়েস্ট মেকড রোড, হেলাতলা রোড, কালিবাড়ী রোড, ক্লে রোড, কেডি ঘোষ রোড, স্যার ইকবাল রোডের একাংশ ও স্টেশন রোড নিয়ে এই বড়বাজারের অবস্থান। এই বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে বাজারটি। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। কয়েক হাজার পাইকারি দোকান ও বিভিন্ন পণ্যের আড়ত রয়েছে এখানে। ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার দোকান রয়েছে বড়বাজারে।

বলা হয়, এটিই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার। প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে বাজারটি। খুলনা বিভাগের সব জেলাসহ ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী থেকেও এক সময় এখানে আসতেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতা। আজও আশেপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ এখান থেকে পাইকারি পণ্যাদি কিনে নিয়ে যায়।

এক সময় এখানে ২৬ ফুট চওড়া রাস্তা ছিল। রাস্তার প্রশস্ততা কমতে কমতে তা বর্তমানে ১০ ফুটে দাঁড়িয়েছে। ফলে যান চলাচলে সমস্যা হয়। তাছাড়া ভৈরব নদের ভাঙনে বাজারের অনেক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বড় দোকানের সামনে থাকা ছোট দোকানগুলো সরিয়ে ফেলা দরকার। রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাজার সম্প্রসারণ করা উচিত। এত কিছুর পরও ব্যবসা-বাণিজ্যে কমতি নেই। মাসে কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় এখানে। দুইশ বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হয়ে আছে বড়বাজার।

 

শুভ্র শচীন, খুলনা