প্রচ্ছদ শেষ পাতা

দুই কোটি মানুষ এখনও বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

ইসমাইল আলী: গত কয়েক বছরে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দ্রুত বেড়েছে। পাশাপাশি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে সরকার। যদিও এ লক্ষ্য থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনও রয়ে গেছে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। বর্তমানে এর পরিমাণ প্রায় দুই কোটি। এতে বিদ্যুৎবিহীন জনগোষ্ঠীর শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম।
গত শুক্রবার প্রকাশিত ‘ট্র্যাকিং এসডিজি ৭: দি এনার্জি প্রোগ্রেস রিপোর্ট ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ), ইন্টারন্যাশনাল রিনিউঅ্যাবল এনার্জি এজেন্সি, ইউনাইটেড ন্যাশনস স্ট্যাটেটিকস ডিভিশন, বিশ্বব্যাংক ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেছে। ২০১৭ সালের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আট বছরে বাংলাদেশে বিদ্যুতের সুবিধাভোগী দ্রুত বেড়েছে। এ সময়ে বিদ্যুৎ গ্রাহক বেড়েছে প্রতি বছর প্রায় চার দশমিক সাত শতাংশ হারে। এতে বিশ্বে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানকারী শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। আর ২০১৭ সাল শেষে ৮৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। যদিও প্রায় এক কোটি ৯৮ লাখ মানুষ তখনও বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে ছিল।
যদিও ২০১৬ সালের শেষে ৭৬ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় ছিল। সে সময় বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে ছিল তিন কোটি ৯২ লাখ মানুষ।
২০১০-১৭ সময়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কম্বোডিয়া। গত আট বছরে গড়ে আট দশমিক ৩০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে। ২০১৭ সাল শেষে দেশটির ৮৯ দশমিক ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় রয়েছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির আট বছরে গড়ে সাত দশমিক ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে। বর্তমানে দেশটির ৯৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে।
দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানকারী দেশের তালিকায় এরপর রয়েছে যথাক্রমে কেনিয়া, তৈমুর-লিস্টা, সেন্ট মার্টিন (ফ্রান্সের অংশ), কিরিবাটি, পাপুয়া নিউগিনি, বাংলাদেশ, নেপাল ও সোলোমন আইল্যান্ড। এর মধ্যে বাংলাদেশে গত আট বছরে গড়ে চার দশমিক ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।
এদিকে বর্তমানে বিদ্যুৎ বঞ্চিত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটির প্রায় ৯ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নাইজেরিয়ার আট কোটি ৭০ লাখ, কঙ্গোর ছয় কোটি ৬০ লাখ, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়ার পাঁচ কোটি ৮০ লাখ করে, তানজানিয়ার তিন কোটি ৮০ লাখ, উগান্ডার তিন কোটি ৩০ লাখ, মোজাম্বিকের দুই কোটি ২০ লাখ ও বাংলাদেশের দুই কোটি মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। এ হিসেবে বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত দেশের তালিকায় নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ শেয়ার বিজকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি অনেক পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে করা। বর্তমানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। এজন্য একদিনের মধ্যে বাসাবাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে খুব দ্রুত দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এদিকে রান্নার কাজে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত আট বছরে গড়ে এক শতাংশেরও কম হারে বেড়েছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার। এতে ২০১৭ সাল শেষে মাত্র ২৮ শতাংশ তথা চার কোটি মানুষ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার করত। আর ১৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ অপ্রচলিত জ্বালানি রান্নার কাজে ব্যবহার করছে, যা বিশ্বে চতুর্থ।
এ তালিকায় বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ভারত। দেশটির ৭৩ কোটি ২০ লাখ তথা ২৫ শতাংশ মানুষ অপ্রচলিত জ্বালানি রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের ৫৯ কোটি ৭০ লাখ ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা নাইজেরিয়ার ১৭ কোটি ৮০ লাখ অপ্রচলিত জ্বালানি রান্নার কাজে ব্যবহার করছে। আর পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির ১০ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অপ্রচলিত জ্বালানি রান্নার কাজে ব্যবহার করছে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..