দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত সভায় গতকাল এ প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। শিগগিরই এ প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ওঠানো হবে। তবে সেখানে এ বরাদ্দ কিছুটা হেরফের হতে পারে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার তথ্য অনুযায়ী বরাবরের মতো এবারও বরাদ্দের দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে পরিবহন খাত। বিদ্যুৎ, ভৌত অবকাঠামোর পরই সর্বোচ্চ বরাদ্দের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাত। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এডিপির পরিমাণ দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বিদেশিদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
সভা শেষে মন্ত্রী জানান, বর্ধিত সভায় এডিপির এই আকার গ্রহণ করা হয়েছে। এটা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী এনইসি সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এডিপির অগ্রগতির চিত্র তুলে এমএ মান্নান বলেন, বর্তমান এডিপির অগ্রগতি এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, টাকায় যার পরিমাণ ৯৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। গত বছর এই সময়ে এডিপির অগ্রগতি ছিল ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ, টাকায় যার পরিমাণ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।
এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহা. নূরুল আমিন জানান, দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপির ৬৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ বা এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকার জোগান হবে অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে এবং বৈদেশিক সম্পদ থেকে ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ বা ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা বা ২৬ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে পরিবহন খাতে। খাতওয়ারি বরাদ্দে এটাই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ বা ২৬ হাজার ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুতে। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২৪ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতের জন্য এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বা ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা ও ধর্মে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সব খাতকেই আমরা সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কৌশলে ২০০৯ সাল থেকে অসম্ভব রকমের উন্নয়ন শুরু করেছেন, ওই কৌশল থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’ তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এই চার-পাঁচটা ক্ষেত্রে আমরা ঘোরাফেরা করছি। কারণ এগুলো আমাদের ভালো ফল দিয়েছে।’
এদিকে অগ্রাধিকার পাওয়া বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বা মোট এডিপির আট দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা সাত দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, কৃষিতে সাত হাজার ৬১৬ কোটি, পানিসম্পদে পাঁচ হাজার ৬৫৩ কোটি এবং জনপ্রশাসনে পাঁচ হাজার ২৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন ঠিক সময়ে করা বা দীর্ঘসূত্রতার চক্র ভাঙার নতুন কোনো পদক্ষেপ আছে কি নাÑসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এই ধারা ভাঙতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এজন্য আইএমইডিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।’ তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালকদের অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয়, তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি গ্রামে থাকছে। আশা করি, বড় ফল পাবেন। বছর শেষে চমকপ্রদ সংবাদ পাবেন।

সর্বশেষ..