সম্পাদকীয়

দুদক আইনে করদাতার সুরক্ষা নিশ্চিত করুন

বিশ্বে দুর্নীতিতে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। সরকারি, বেসরকারি সবক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি জেঁকে বসেছে। এতে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অবশ্য দুর্নীতি দমনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের অনেক কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে প্রশংসিত ও ফলপ্রসূও হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডে গতি আনতে বিশেষ করে দুর্নীতিবাজ করদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে এতে করদাতার সুরক্ষা যাতে নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি। কারণ এ ধরনের তথ্যের অপব্যবহার হওয়ার সুযোগ থেকে যায়।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘দুদক আইন সংশোধনের উদ্যোগ: করদাতার তথ্য গোপন থাকছে না’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুদক আইন সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে করদাতার তথ্য গোপন থাকছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। করদাতাদের কর বিবরণী, রিটার্ন ও ব্যাংকের তথ্যসহ যাবতীয় তথ্য অবাধে পেতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবশ্য আগেও আইন অনুযায়ী যে কোনো করদাতার তথ্য এনবিআর থেকে নিতে পারত দুদক। আইন সংশোধন হলে দুর্নীতির অভিযোগে তথ্য দিতে এনবিআর বাধ্য থাকবে। তবে করদাতার তথ্য প্রকাশ হওয়া যে অভিযোগ আসছে, তা উদ্বেগজনক। এতে নিরপরাধ অনেকে ক্ষতির শিকার হতে পারেন।
খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, আয়করদাতার তথ্য গোপনীয় ও স্পর্শকাতর হওয়ায় চাইলেই তা প্রকাশ করা যায় না। এতে করদাতা সমস্যায় পড়ার পাশাপাশি নতুন করদাতারা কর প্রদানে নিরুৎসাহিত হন। করজাল সম্প্রসারণেও সমস্যা তৈরি হয়। আয়কর আইন অনুযায়ীও করদাতার সব তথ্য গোপন রাখতে বাধ্য এনবিআর। এক্ষেত্রে দুদকের আইন সংশোধন হলে তথ্য প্রকাশ হওয়ার যে ব্যাপারটি সামনে আসছে তা উদ্বেগ বাড়াবে। অনেকে কর দেওয়া বন্ধও করে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আইন সংশোধন হলেও করদাতার তথ্য যাতে গোপন থাকে, সে ব্যাপারটি দুদককে আগে থেকেই গুরুত্ব সহকারে ভেবে দেখতে হবে।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। এমনকি অপরাধীর অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগে অনেক দেশে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয় না। অবশ্য দুর্নীতিবাজ ছাড়া সৎ করদাতারা এ আইনকে সাধুবাদ জানাবে বলে মনে করছে দুদক। অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করারও প্রয়োজন রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করা হবে বলে আমরা আশা করব। কারণ কর আমাদের রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এখানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কর্মকাণ্ড সমীচীন নয় বলে আমরা মনে করি।

সর্বশেষ..