দুদিনের ব্যবধানে ফের সংশোধন

রুবাইয়াত রিক্তা: দুই দিনের ব্যবধানে ফের সংশোধনের কবলে পুঁজিবাজার। গতকাল বড় ধরনের পতন না হলেও এবং আগের দিন ১২৮ পয়েন্ট সূচক বাড়লেও গতকাল ১১ পয়েন্ট পতন হয়। অর্থাৎ সূচকের গতিতে ধারাবাহিকতা নেই। একদিন ১০০ পয়েন্টের বেশি বাড়ছে তো পরদিনই পতন নেমে আসছে। তবে সূচক না বাড়লেও লেনদেন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এটা ইতিবাচক। গতকাল সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার পুঁজিবাজারে আনার জন্য দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সরকারি কোম্পানিগুলো এলে গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের পরিধি আরও বাড়বে। ফলে আস্থা বাড়বে বাজারের প্রতি। তবে এ উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

গতকাল মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অবদান ছিল ১৯ শতাংশ বা প্রায় ৮৮ কোটি টাকা। এ খাতের ৪৭ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। লেনদেন বেড়েছে ৯ কোটি টাকার বেশি। ৪৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এ খাতের ব্র্যাক ব্যাংকের প্রায় ১২ কোটি টাকার, সিটি ব্যাংকের ১১ কোটি টাকার ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৯ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়ে লেনদেনে শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৭ শতাংশ। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ছয় কোটি টাকা। ৪৪ শতাংশ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এটলাস বাংলাদেশ ও ইস্টার্ন কেব্লস দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এ খাতের ন্যাশনাল টিউবসের সাড়ে ১১ কোটি টাকার ও ইফাদ অটোসের সাড়ে ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। তবে গতকাল এ খাতে লেনদেন কমেছে সাড়ে ছয় কোটি টাকা। এ খাতের সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের দর গতকালও বেড়েছে পাঁচ দশমিক ৪৫ শতাংশ। কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধির পর গতকাল এ খাত থেকে মুনাফা তুলে নেওয়া হয়। প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হওয়ায় স্কয়ার ফার্মা লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। তবে শেয়ারটির দর কমেছে ২ টাকা ৫০ পয়সা। ২৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে বাজারের নেতৃত্বে ছিল গ্রামীণফোন। তবে এ কোম্পানি থেকে মুনাফা তোলার প্রবণতায় দর কমেছে দুই টাকা ৭০ পয়সা। বস্ত্র খাতে ২৪ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেন বেড়েছে দুই কোটি টাকা। এ খাতের প্যারামাউন্ট টেক্সের দর দুই টাকা ৫০ পয়সা বেড়েছে এবং লেনদেন হয় প্রায় ১২ কোটি টাকার। এ খাতের জেড ক্যাটেগরির অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান এক টাকা ৫০ পয়সা বাড়লেও গতকাল শেয়ারটির দর বেড়েছে ছয় দশমিক ৮৪ শতাংশ। এছাড়া দুলামিয়া কটনের দর ১০ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। অথচ এ কোম্পানিটিরও দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান বেড়েছে ৯ পয়সা।