দু’দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে এফটিএ সইয়ের আহ্বান

ডিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে মালয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি আবুল কাসেম খানের সঙ্গে গতকাল চেম্বার কার্যালয়ে বাংলাদেশের মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নূর আশিকিন বিনতে মোহা. তায়ীব এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ডিসিসিআই সহসভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক ইঞ্জি. আকবর হাকিম, আন্দালিব হাসান, হোসেন এ সিকদার, হুমায়ুন রশিদ, ইঞ্জি. মো. আল আমিন, এসএম জিল্লুর রহমান ও ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে মালয় হাইকমিশনার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটা ধরে রাখার জন্য বিদ্যমান অবকাঠমো খাতের সংস্কার ও উন্নয়ন আরও তরান্বিত করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে প্রতীয়মান হয় যে, মালয়েশিয়া বেশ এগিয়ে রয়েছে।
তিনি দু’দেশের মধ্যকার বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অতিদ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর জোরারোপ করেন।
মালয় হাইকমিশনার বলেন, অতি সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট’ অনুযায়ী মালয়েশিয়া ব্যবসা পরিচালনার সূচকে ২০তম স্থান হতে ১৫তম স্থানে ওঠে এসেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবসা পরিচালনা সূচকে আরও উন্নতির সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজার সবচাইতে বৃহৎ এবং এক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বাজারে হালাল পণ্য রফতানির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি আশিয়ান অঞ্চলের দেশসমূহে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি ও বিনিয়োগের জন্য এদেশের ব্যবসায়ীদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য প্রবেশ দ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, এজন্য তিনি বাংলাদেশ কে ‘আসিয়ান’-এ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য মালয়েশিয়া সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
চেম্বার সভাপতি বলেন, মালয়েশিয়ার বাজারে হালাল পণ্য রফতানির বিষয়টি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশাল সম্ভাবনার বিষয় এবং বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে হালাল পণ্য রফতানির সাটিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়া চালু করতে এদেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য মালয়েশিয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।